কার্গিল যুদ্ধের সময় ভারতীয় সৈন্যরা বীরত্বের ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন : রাজনাথ সিং
দ্রাস, ২৬ জুলাই (হি.স.): কার্গিল যুদ্ধের সময় ভারতীয় সৈন্যরা বীরত্বের ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন, জোর দিয়ে বললেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। রবিবার কার্গিলের দ্রাসে আয়োজিত কার্গিল বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে রাজনাথ সিং বলেন, কার্গিল যুদ্ধ ভারতের জন্য কেবল
রাজনাথ সিং


দ্রাস, ২৬ জুলাই (হি.স.): কার্গিল যুদ্ধের সময় ভারতীয় সৈন্যরা বীরত্বের ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন, জোর দিয়ে বললেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। রবিবার কার্গিলের দ্রাসে আয়োজিত কার্গিল বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে রাজনাথ সিং বলেন, কার্গিল যুদ্ধ ভারতের জন্য কেবল একটি সামরিক ও কূটনৈতিক বিজয়ই ছিল না; এটি ছিল এমন এক মুহূর্ত যখন সমগ্র বিশ্ব ভারতীয় সৈন্যদের অদম্য সাহস ও বীরত্বের সাক্ষী হয়েছিল। কার্গিল যুদ্ধে ভারতীয় সৈন্যদের সেই বীরত্ব এমন এক ইতিহাস সৃষ্টি করেছে, যা প্রতিটি ভারতীয়র জন্য গর্বের বিষয়।

রাজনাথ সিং বলেন, আমাদের সাহসী সৈন্যরা সর্বদা অসাধারণ বীরত্ব ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে। আমরা সম্প্রতি ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সাফল্যের প্রথম বার্ষিকী উদযাপন করেছি। সেই অভিযানের সময় আমাদের বীর সৈনিক ও আধিকারিকরা সন্ত্রাসী এবং তাদের মদতদাতাদের এমন এক উপযুক্ত জবাব দিয়েছিলেন, যা তারা কখনোই ভুলবে না। পাকিস্তানের যে কোনও নেতিবাচক কর্মকান্ডের জবাবে তাদের কল্পনারও বাইরে গিয়ে কঠোরতম পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতা ভারতের রয়েছে। আমি এই মঞ্চ থেকে একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চাই যে, ভারতের সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলে এমন যে কোনও ঘৃণ্য কাজের পরিণতি এমনই হবে। এই যুদ্ধ-স্মৃতিসৌধে আপনারা সমগ্র ভারতকে দেখতে পাবেন। এই শহীদদের তালিকায় হিমাচল প্রদেশ, নাগাল্যান্ড, মেঘালয়, তামিলনাড়ু এবং দেশের প্রতিটি অঞ্চলের মানুষের নাম রয়েছে। এখানে এমন সব মানুষের নাম রয়েছে যারা মন্দির, মসজিদ, গুরুদ্বারা ও গির্জায় প্রার্থনা করতেন। যারা এই দেশকে ভেঙে ফেলার স্বপ্ন দেখেন, তাদের এখানে তাকানো উচিত। ভারতকে বিভক্ত করার সেই স্বপ্নের বিরুদ্ধে এই দেওয়ালটিই এক বলিষ্ঠ জবাব।

রাজনাথ সিং আরও বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য স্পষ্ট। পাকিস্তানের সঙ্গে কোনও আলোচনা হবে না। যদি কোনও আলোচনা হয়, তবে তা কেবল 'পিওকে' বা পাক-অধিকৃত কাশ্মীর নিয়েই হবে—যা ভারতেরই অংশ এবং পাকিস্তান তা অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে। বর্তমানে পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদকে নিজস্ব সরকারি নীতির অংশ করে তুলেছে এবং সেখানে সেনাবাহিনী ও জঙ্গিদের মধ্যে পার্থক্য পুরোপুরি মুছে গেছে। সেনাবাহিনী কেবল সন্ত্রাসী সংগঠনগুলিকে রক্ষাই করে না, বরং তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজও করে। তাই 'অপারেশন সিঁদুর'-এর সময় আমরা স্পষ্ট করে দিয়েছিলাম, ভারত আর সন্ত্রাসী এবং তাদের সমর্থনকারী সরকারগুলোকে আলাদা চোখে দেখবে না। রাজনাথ আরও বলেছেন, এখন ভারত যখন উদ্ভাবনের পথে এগিয়ে চলেছে, তখন পাকিস্তান অনুপ্রবেশের নতুন নতুন উপায় খুঁজছে। ভারত যখন জাহাজ তৈরির নকশা করছে, পাকিস্তান তখন সন্ত্রাসবাদের নকশা তৈরিতে ব্যস্ত। ভারত যখন স্টার্টআপের জন্য অনুকূল পরিবেশ গড়ে তুলছে, পাকিস্তান তখন গড়ে তুলছে সন্ত্রাসবাদের পরিবেশ। ভারত যখন সেমিকন্ডাক্টর তৈরি করছে, পাকিস্তান তখন আত্মঘাতী বোমারু তৈরি করছে। ভারত মহাকাশ অভিযানের জন্য পরিচিত, আর পাকিস্তান চালাচ্ছে প্রক্সি অভিযান। ভারত যখন মহাকাশে উপগ্রহ পাঠাচ্ছে, পাকিস্তান তখন সীমান্তে সন্ত্রাসী পাঠাতে ব্যস্ত। ভারত যখন বিশ্বকে সফটওয়্যার সরবরাহ করছে, পাকিস্তান তখন জোগান দিচ্ছে সন্ত্রাসবাদ। ভারত যখন ডেটা সেন্টার গড়ে তুলছে, পাকিস্তান তখন গড়ে তুলছে উগ্রবাদ বিস্তারের কেন্দ্র। ভারত যখন ইউপিআই-এর মাধ্যমে বিশ্বকে সংযুক্ত করছে, পাকিস্তান তখন হাওয়ালা-র মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদকে সংযুক্ত করছে। আমাদের পথ ভিন্ন। পাকিস্তান যদি হীন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আমাদের অগ্রযাত্রায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে তার উপযুক্ত জবাব দেওয়ার জন্য আমাদের সাহসী সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সংবাদ




 

 rajesh pande