
আহমেদাবাদ, ৩১ জুলাই (হি.স.): গুজরাটে ফের ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (আইএমডি)-এর পক্ষ থেকে জারি করা হয়েছে লাল সতর্কতা| শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে ১০টার মধ্যে রাজ্যের ৮৭টি জায়গায় মুষলধারে বৃষ্টিপাত হয়েছে।
টানা বৃষ্টিতে ভাসছে রাজ্যের একাধিক জেলা, আর এরই মাঝে নবসারিতে ঘটেছে এক হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা। নবসারি জেলার গণদেবী তহসিলের গণদেবা গ্রামের কাছে শ্রমিকবাহী একটি টেম্পো ছিঁড়ে যাওয়া বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে চলে আসে। মুহূর্তে পুরো টেম্পোতে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়ে ঘটনাস্থলেই তিন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দুই শ্রমিক। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়| তবে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সুরাটে পাঠানো হয়েছে। নিহতদের নাম-পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি পুলিশের তরফে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সি.আর. পাটিল দুর্ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, এদিন সকাল থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন অংশে মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে। সবচেয়ে করুণ অবস্থা খেড়া জেলার ভাসোতে| সকাল ৮টা থেকে ১০টা— মাত্র দুই ঘণ্টায় ব্যাপক বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এখানে। এছাড়া বালাসিনোরে এবং নাদিয়াদেও প্রবল বৃষ্টি হয়। সুরাট, ভদোদরা এবং ভারুচ শহরের প্রধান সড়কগুলো জলমগ্ন হয়ে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সুরাট, সূর্যপুর-সহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু সমান জল জমেছে। শহরের খাল ও অন্যান্য নিকাশির জলস্তর দ্রুত বাড়তে থাকায় বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
টানা বৃষ্টিতে ভদোদরা, ভারুচ, খেড়া জেলায় প্রবাহিত নদীগুলো কানায় কানায় পূর্ণ। এছাড়া, নর্মদা জেলার তিলকবাড়ায় প্লাবিত এলাকা থেকে এক যুবককে উদ্ধার করেছে এসডিআরএফ। রাজপিপলা-সিসোদরা সড়ক জলের তোড়ে ভেসে যাওয়ায় ওই রুটে সমস্ত যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমস্ত সরকারি বিভাগকে যেকোনও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌম্যজিৎ