
সুপৌল, ৩১ জুলাই (হি.স.): নেপালের সুনসরি জেলার দেওয়ানগঞ্জ এবং সিরহা-লাহান এলাকায় সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের পর ভারত-নেপাল আন্তর্জাতিক সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়া করা হয়েছে। নেপালের একাধিক সংবেদনশীল এলাকায় কারফিউ জারি হওয়ার পর সুপৌল জেলা প্রশাসনের নির্দেশে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
সীমান্তে সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি) এবং বিহার পুলিশকে হাই অ্যালার্টে রাখা হয়েছে। ভারত-নেপাল সীমান্ত দিয়ে যাতায়াতকারী প্রত্যেক ব্যক্তির কড়া তল্লাশি চালানো হচ্ছে। নিরাপত্তা বাহিনী সন্দেহজনক গতিবিধির উপর নিবিড় নজর রাখছে।
পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে শুক্রবার সুপৌলের পুলিশ সুপার শরথ আর. এস. এবং ভীরপুরের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সুরেন্দ্র কুমার সীমান্তবর্তী এলাকা পরিদর্শন করেন। তাঁরা সংশ্লিষ্ট থানাগুলিকে সীমান্তে টহল বাড়ানো, সন্দেহজনক কার্যকলাপের উপর কঠোর নজরদারি এবং গুজব রটালে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার এবং ভুয়ো বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের উপর বিশ্বাস না করার আবেদন জানানো হয়েছে।
সীমান্তে যাতায়াত সীমিত হওয়ায় স্থানীয় ব্যবসাতেও তার প্রভাব পড়েছে। ভীমনগর ও ভীরপুরের বাজারে অন্যান্য দিনের তুলনায় ক্রেতার সংখ্যা অনেক কম ছিল। নেপাল থেকে ক্রেতা কম আসায় ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র দোকানদার এবং দৈনিক মজুরদের আয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভীরপুর বাসস্ট্যান্ড ও অন্যান্য বাণিজ্যিক এলাকাতেও স্বাভাবিক ভিড় দেখা যায়নি।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, ভীমনগর বাজারের দৈনন্দিন ব্যবসাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তাঁদের আশা, সীমান্তে স্বাভাবিক যাতায়াত শুরু হলেই ব্যবসা আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে।
প্রশাসনের দাবি, সীমান্তবর্তী এলাকার পরিস্থিতির উপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এদিকে নেপালের সমাজকর্মী খেমচন্দ্র যাদব সাম্প্রতিক সংঘর্ষে তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় শোকপ্রকাশ করে সকলকে শান্তি ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য