নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় বারুইপুরে স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে তৃণমূল নেতারা
কলকাতা, ৭ জুলাই (হি. স.) : দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ১২ বছর বয়সী নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার রাজনৈতিক পারদ চড়ল। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান, তবে এই প্রক্রিয়ায় অনেক নেতাকেই স্থানীয়
বারুইপুরে তৃণমূল নেতারা


কলকাতা, ৭ জুলাই (হি. স.) : দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ১২ বছর বয়সী নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার রাজনৈতিক পারদ চড়ল। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান, তবে এই প্রক্রিয়ায় অনেক নেতাকেই স্থানীয় মানুষের বিক্ষোভ ও ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়।

তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি দলের সদস্য ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় যখন নির্যাতিতার বাড়িতে পৌঁছন, তখন সেখানে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ঘটনার এত দিন পরে আসার কারণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একই সময়ে ওই কেন্দ্রের সাংসদ সায়নী ঘোষকেও স্থানীয় বাসিন্দাদের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। কিছু মানুষ তাঁর বিরুদ্ধে স্লোগানও দেন। তবে বিক্ষোভের মাঝেই দুই নেতা নির্যাতিতার পরিজনদের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানান।

সাক্ষাতের পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তিনি নির্যাতিতার বাবা-মাকে সান্ত্বনা দিয়েছেন এবং রাজ্যে লাগাতার ঘটে চলা এই ধরনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, সরকারের উচিত এই ধরনের মামলায় কঠোর পদক্ষেপ করা এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া। এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর আগেই কথা হয়েছে এবং তিনি ন্যায়ের দাবি জানিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, সাংসদ সায়নী ঘোষ স্থানীয় মানুষের বিক্ষোভের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে বলেন, ভোটারদের যদি তাঁর প্রতি কোনও ক্ষোভ থাকে, তবে তা প্রকাশ করার পূর্ণ অধিকার তাঁদের রয়েছে। তিনি জানান, কিছুক্ষণ বিক্ষোভের পর তিনি পরিবারের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান। সায়নী দাবি করেন, বারুইপুরের এই ঘটনার নেপথ্যে কোনও বড় চক্র সক্রিয় থাকতে পারে। তিনি জানান, এখনও পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তদন্ত এগোলে আরও অনেকেই গ্রেফতার হতে পারে। তাঁর মতে, কেবল অভিযুক্তদের গ্রেফতার করাই যথেষ্ট নয়, বরং পুরো নেটওয়ার্কের হদিশ পেয়ে তা গুঁড়িয়ে দেওয়া জরুরি।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই ভাঙড়ের বিধায়ক তথা ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ)-এর চেয়ারম্যান নওশাদ সিদ্দিকীও নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে বারুইপুর পৌঁছন। এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ঘটনার পর পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার কারণেই মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, নারী নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের অত্যন্ত কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ করা উচিত।

বারুইপুরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় এখনও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়ে রয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে এবং পুলিশ এ পর্যন্ত তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করার প্রক্রিয়াও জারি রয়েছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande