
দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ৮ জুলাই (হি. স.): বারুইপুরে নাবালিকা খুনের অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের পুলিশি এনকাউন্টারে মৃত্যুর পর, এই প্রথম প্রতিক্রিয়া দিলেন তার স্ত্রী চম্পা মণ্ডল। বুধবার সকালে স্বামীর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তিনি বলেন, সে ভুল করেছিল, অপরাধ করেছিল এবং তাই গুলি খেয়েছে। এতে নতুন করে কিছু বলার নেই।
চম্পা মণ্ডল জানান, বিয়ের পর থেকেই তাঁকে অনবরত অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে। তাঁদের একটি ছেলে রয়েছে, পরিস্থিতির চাপে পড়ে তিনি ঘর ছেড়ে বেরোতে পারেননি। তিনি আরও বলেন, স্বামীর আচার-ব্যবহার দেখে তাঁর আগেই আশঙ্কা হয়েছিল যে সে এই ধরনের জঘন্য অপরাধ করতে পারে।
তিনি জানান, প্রভাস কোনো কাজকর্ম করত না এবং বাড়িতেই বসে থাকত। এই ঘটনায় তার নাম জড়িয়ে যাওয়ার পর থেকেই তাঁর মনে হয়েছিল যে সে এই অপরাধে লিপ্ত থাকতে পারে। চম্পা বলেন, প্রভাস এই অপরাধ করেনি— এমন কথা তিনি বলতে পারবেন না। বিয়ের পর থেকে তিনি তার বহু অপকর্ম ও অত্যাচার দেখেছেন। তাই তিনি বিশ্বাস করেন যে, প্রভাসই এই কাণ্ড ঘটিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৫ জুলাই বারুইপুরে এক নাবালিকাকে যৌন নির্যাতনের পর শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়। এরপর প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে দেহটি পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। পরদিন সকালে বস্তাবন্দি অবস্থায় ওই নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয়। এই মামলায় প্রভাস মণ্ডল অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত ছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১২টা ৪৫ মিনিট নাগাদ প্রভাস মণ্ডলকে ঘটনাস্থলে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করানোর জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেই সময় সে আচমকাই এক পুলিশ কর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পুলিশের দিকে তাক করে পালানোর চেষ্টা করে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে সে গুরুতর জখম হয়। তাকে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
বুধবার ভোরে পুলিশ প্রভাসের বাড়িতে পৌঁছে তার পরিবারকে মৃত্যুর খবর দেয়। ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে মা সন্ধ্যা মণ্ডল বলেন, সে যা করেছিল, তার এটাই পরিণতি হওয়া উচিত ছিল। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তিনি ছেলের মৃতদেহ নিতেও যাবেন না। তাঁর কথায়, প্রভাস তাঁর কোনো কথা শুনত না এবং মারাত্মক নেশাগ্রস্ত ছিল।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি