
গুয়াহাটি, ৮ জুলাই (হি.স.) : পশ্চিমবঙ্গের হলদিবাড়ি রেলওয়ে স্টেশনকে অমৃত ভারত স্টেশন স্কিম (এবিএসএস)-এর অধীনে সফলভাবে পুনর্বিকাশের কাজ সম্পন্ন করেছে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়েউত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে। স্টেশনটিকে তার আঞ্চলিক ঐতিহ্য রক্ষা করে একটি আধুনিক, অ্যাক্সেসযোগ্য এবং যাত্রী-বান্ধব পরিবহণ কেন্দ্রে রূপান্তরিত করা হয়েছে।
উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা এ খবর দিয়ে জানান, উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রাচীন রেলওয়ে স্টেশন হলদিবাড়ি ঐতিহাসিকভাবে পূর্ব ও উত্তরপূর্ব ভারতকে সংযোগকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ হিসেবে কাজ করেছে। ১৮৭৮-এ চালুকৃত এই স্টেশনটি ২০২০-এ ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে হলদিবাড়ি-চিলাহাটি রেলওয়ে সংযোগ পুনরায় চালু হওয়ার ফলে কৌশলগত গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে আঞ্চলিক সংযোগ ও আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যকে মজবুত করেছে।
কপিঞ্জল শর্মা জানান, ২০২৬-এর মার্চে সম্পন্ন এই পুনর্বিকাশ কাজের অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে, স্টেশন ভবন ও ওয়েটিং হলগুলোর সংস্কার, শৌচাগারের আধুনিকীকরণ, ১২ মিটার চওড়া নতুন ফুট-ওভার ব্রিজ নির্মাণ, প্ল্যাটফর্মে অতিরিক্ত ছাউনির ব্যবস্থা, গ্রানাইট ও কোটাস্টোন দিয়ে প্ল্যাটফর্মের উপরিভাগ নতুন করে তৈরি করা, দুটি লিফট স্থাপন, উন্নত নিষ্কাশন ও পার্কিং সুবিধা সহ একটি সার্কুলেটিং এরিয়া গড়ে তোলা এবং স্টেশন ভবনের সম্মুখভাগের উন্নয়ন, ল্যান্ডস্কেপিং ও গ্রাফিতি শিল্পের মাধ্যমে নান্দনিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি।
রেম্প, ট্যাকটাইল পাথওয়ে, সহজে ব্যবহারযোগ্য শৌচাগার, উন্নত সাইনেজ এবং যাত্রী তথ্য প্রদানের আধুনিকীকৃত ব্যবস্থার মতো দিব্যাঙ্গজন-বান্ধব সুযোগ-সুবিধার মাধ্যমে যাত্রী সুযোগ-সুবিধা অন্তর্ভুক্তিকরণের পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিচালনগত দক্ষতা ও যাত্রীদের সুরক্ষা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আধুনিক টেলিযোগাযোগ ও সুরক্ষা পরিকাঠামোও স্থাপন করা হয়েছে।
পুনর্বিকাশ প্রক্রিয়ায় স্টেশনের প্রবেশপথে যানজট, অপর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা, জলাবদ্ধতা এবং জরাজীর্ণ পরিকাঠামোর মতো দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর সমাধান করা হয়েছে। একটি নতুন প্রবেশদ্বার, উন্নত যাতায়াত ব্যবস্থা, সম্প্রসারিত ওয়েটিং হল, মডুলার টয়লেটের সুবিধা, উন্নত আলোকসজ্জা এবং প্ল্যাটফর্মের উন্নত সুযোগ-সুবিধা যাত্রীদের এখন আরও সুরক্ষিত, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও আরামদায়ক ভ্রমণের অভিজ্ঞতা প্রদান করছে, বলেন কপিঞ্জলকিশোর।
তিনি বলেন, উন্নতমানের এই স্টেশন যাত্রী, পর্যটক এবং স্থানীয় জনগণের জন্য উল্লেখযোগ্যভাবে উপকৃত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সংযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ত্বরান্বিতকরণ, ‘ওয়ান স্টেশন ওয়ান প্রোডাক্ট’ পদক্ষেপের অধীনে আঞ্চলিক পণ্যের প্রসার এবং ঐতিহাসিক ভারত-বাংলাদেশ রেল করিডোরকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়টি নিশ্চিত হবে।
অমৃত ভারত স্টেশন স্কিমের অধীনে ভারতীয় রেলেওয়ে সমগ্র দেশজুড়ে ১,৩৩৭টি স্টেশনকে আধুনিকীকরণ পদক্ষেপের অংশ হিসেবে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে ৯২টি স্টেশনের পুনর্বিকাশ করছে। এর মাধ্যমে বিশ্বমানের যাত্রী-সুবিধা, ধারাবাহিক পরিকাঠামো এবং উন্নত সংযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে, জানান এনএফ রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা।
হিন্দুস্থান সমাচার / স্নিগ্ধা দাস