ই২০-র বিরোধিতা নিছক নির্বাচনী প্রচার ছাড়া আর কিছুই নয় : অসম বিজেপি
গুয়াহাটি, ৮ জুলাই (হি.স.) : সাম্প্রতিককালে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলির মধ্যে অন্যতম হল ই-২০ বা ইথানল মিশ্রিত পেট্রোলের ব্যবহার। এ নিয়ে বিরোধীদের আপত্তিকে তথ্যভিত্তিক নয়, নির্বাচনকে সামনে রেখে সস্তা রাজনৈতিক প্রচারের একটি অংশ বলে দাবি করেছে অসম প্রদ
ই২০-র বিরোধিতা নিছক নির্বাচনী প্রচার ছাড়া আর কিছুই নয় : অসম বিজেপি


গুয়াহাটি, ৮ জুলাই (হি.স.) : সাম্প্রতিককালে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলির মধ্যে অন্যতম হল ই-২০ বা ইথানল মিশ্রিত পেট্রোলের ব্যবহার। এ নিয়ে বিরোধীদের আপত্তিকে তথ্যভিত্তিক নয়, নির্বাচনকে সামনে রেখে সস্তা রাজনৈতিক প্রচারের একটি অংশ বলে দাবি করেছে অসম প্রদেশ বিজেপি।

দলের মিডিয়া প্যানেলিস্ট অচিন্ত্যপ্রাণ শর্মা এক বিবৃতিতে বলেন, হরিয়ানা কিংবা বিহারের নির্বাচনে পরাজয়ের পর যেমন ইভিএম নিয়ে ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হয়েছিল, তেমনই এবার ই-২০ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে। তিনি অভিযোগ করেন, জনগণকে বারবার বিভ্রান্ত করার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর বিরোধীরা এমন একটি বিষয়কে নির্বাচনী ইস্যু করার চেষ্টা করছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। সম্প্রতি নিট পরীক্ষার বিষয় নিয়েও একই ধরনের রাজনৈতিক প্রচেষ্টা দেখা গিয়েছিল। সেটিও সফল না হওয়ায়, কংগ্রেস আমলে শুরু হওয়া ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির ব্যবহারের নীতির বিরোধিতা করছে বিরোধী দলগুলি। অথচ এই নীতিটি তাদের সরকার থাকাকালেই গ্রহণ করা হয়েছিল।

বিজেপির মিডিয়া প্যানেলিস্ট বলেন, পেট্রোলিয়াম জ্বালানির পাশাপাশি ইথানলকে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের ধারণা নতুন নয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে বিশ্বে ইথানলের ব্যবহার বাড়তে শুরু করে এবং বর্তমানে বিশ্বের বহু উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ পরিবেশ দূষণ কমানো এবং কৃষকদের আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইথানলকে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে গ্রহণ করেছে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র বছরে প্রায় ৬৩.৮৪ বিলিয়ন লিটার ইথানল উৎপাদন করে, যা বিশ্বের মোট উৎপাদনের প্রায় ৫০ শতাংশ। এর ফলে, বিশেষ করে ভুট্টা চাষিদের আর্থিক উন্নতি হয়েছে। একইভাবে ব্রাজিল ১৯৩১ সাল থেকে পেট্রোলের সঙ্গে ইথানল মিশিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করছে, ১৯৭১ সালের আরব তেল সংকটের পর সেই মিশ্রণে ইথানলের পরিমাণ বাড়িয়ে ২৭ শতাংশ করা হয়। বর্তমানে ব্রাজিলে ই-৮৫ জ্বালানিভিত্তিক যানবাহনের ব্যবহার ব্যাপক এবং ভারতে এ ধরনের যানবাহন চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

অচিন্ত্যপ্রাণ শর্মা আরও জানান, ভারত খনিজ তেলের ক্ষেত্রে আমদানি-নির্ভর দেশ। তাই পেট্রোলের ব্যবহার কমিয়ে ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো গেলে খনিজ তেল আমদানি কমবে, যার ইতিবাচক প্রভাব দেশের অর্থনীতিতে পড়বে। পাশাপাশি পরিবেশ দূষণও কমবে বলে বিশেষজ্ঞদের মতামত রয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ২০০৫ সালে ভারতে পেট্রোলে ইথানল মিশ্রণের কর্মসূচি শুরু হয়েছিল এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের আমলে এই নীতি কার্যকর করা হয়। পরবর্তীতে বিজেপি সরকারের সময়, বিশেষ করে ২০২৫ সালের পর থেকে ই-২০ জ্বালানির উপযোগী করে যানবাহনের ইঞ্জিন উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ফলে বর্তমানে দেশের অধিকাংশ যানবাহন এই মিশ্রিত জ্বালানি ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত।

অচিন্ত্যপ্রাণ শর্মা বলেন, ই-২০ নিয়ে বিরোধীদের বর্তমান প্রচার সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং নির্বাচনী সুবিধা আদায়ের একটি ব্যর্থ প্রচেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, প্যারাগুয়ে এবং প্রতিবেশী দেশ থাইল্যান্ড সহ বিশ্বের বহু দেশ পরিবেশ সংরক্ষণ ও কৃষকদের আর্থিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি ব্যবহার করছে। সেই পথে ভারতও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছে এবং এ জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের এই উদ্যোগকে অসম বিজেপি স্বাগত জানিয়েছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande