গ্রীষ্মের ছুটিতে ‘ভাগনে’দের উদ্দেশে ‘মামা’ হিমন্তবিশ্ব শৰ্মার বিশেষ চিঠি
গুয়াহাটি, ৮ জুলাই (হি.স.) : অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা তাঁর ‘ভাগনে’দের উদ্দেশে আজ বুধবার সকালে একটি বিশেষ চিঠি লিখেছেন। গ্রীষ্মের ছুটির দিনগুলো কীভাবে কাটানো উচিত, সে বিষয়ে তিনি কয়েকটি আন্তরিক পরামর্শ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই চিঠি
ভাগনেদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা (ফাইল ফটো)


গুয়াহাটি, ৮ জুলাই (হি.স.) : অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা তাঁর ‘ভাগনে’দের উদ্দেশে আজ বুধবার সকালে একটি বিশেষ চিঠি লিখেছেন। গ্রীষ্মের ছুটির দিনগুলো কীভাবে কাটানো উচিত, সে বিষয়ে তিনি কয়েকটি আন্তরিক পরামর্শ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই চিঠি ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

মুখ্যমন্ত্ৰী লিখেছেন, ‘যদি সুযোগ পাও, একবার নিজের নিজের মামার বাড়ি ঘুরে এসো। দাদু-দিদার সঙ্গে বসে গল্প শোনো, বন্ধুদের সঙ্গে খেলো, একটি ভালো বই পড়ো কিংবা নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করো।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শৰ্মা লিখেছেন,

‘আমার স্নেহের ভাগনেরা,

‘এখন নিশ্চয়ই তোমাদের গ্রীষ্মের ছুটি চলছে। তোমাদের মতো আমিও ছোটবেলায় এই সময়টার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতাম। কারণ, গ্রীষ্মের ছুটি মানেই ছিল বিদ্যালয়ের গণ্ডির বাইরে এক নতুন পৃথিবীর সঙ্গে পরিচিত হওয়ার এক বিশেষ সুযোগ। গ্রীষ্মের ছুটি মানেই ছিল মামার বাড়ি যাওয়া, নতুন নতুন জায়গা দেখা, কাকা-কাকিমা, দাদু-দিদা এবং ভাইবোনদের সঙ্গে হাসি-আনন্দে সময় কাটানো।

‘যারা গ্রামে বড় হয়েছি, তাদের জন্য এই সময়টা ছিল আরও বেশি বিশেষ। গাছ থেকে মৌসুমি ফল পেড়ে খাওয়া, পুকুরে মাছ ধরা, মাঠে খেলাধুলা করা, আর সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্রিকেট বা ফুটবল খেলে বাড়ি ফেরা - আজও সেই স্মৃতিগুলো মনে পড়লে এক অন্যরকম আনন্দ অনুভব করি।

‘আজ সময় বদলেছে। মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট আমাদের জীবনকে অনেক সহজ করে দিয়েছে। কিন্তু আমার বিশ্বাস, জীবনের কিছু বাস্তব অভিজ্ঞতা কোনও ডিজিটাল স্ক্রিন কখনও দিতে পারে না। তাই এই গ্রীষ্মের ছুটিতে তোমাদের কাছে আমার একটি আন্তরিক অনুরোধ - যদি সুযোগ পাও, একবার নিজের নিজের মামার বাড়ি ঘুরে এসো। দাদু-দিদার সঙ্গে বসে গল্প শোনো, বন্ধুদের সঙ্গে খেলো, একটি ভালো বই পড়ো কিংবা নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করো।

‘যদি মা-বাবা কোথাও বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা করে থাকেন, তাহলে অসমের ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোর পাশাপাশি সায়েন্স সিটি, শহিদ স্মারক, লাচিত বড়ফুকনের মৈদাম সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানও ঘুরে দেখে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারো।

‘আর একটি বিশেষ কাজ অবশ্যই করবে - নিজের বন্ধু, শিক্ষক-শিক্ষিকা, আত্মীয়-স্বজন অথবা সমাজের কোনও প্রিয় মানুষকে একটি চিঠি লিখবে। আজকের দিনে চিঠি লেখার অভ্যাস দিন দিন কমে গেলেও, চিঠি মানুষের মনের অনুভূতি গভীরভাবে প্রকাশ করতে সাহায্য করে এবং মানুষকে আরও সৃজনশীল করে তোলে।

‘আমি আশা করি, এবারের গ্রীষ্মের ছুটিতে তোমরা নতুন অভিজ্ঞতা, নতুন চিন্তা এবং নতুন স্মৃতিতে সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে।

সবাই ভালো থেকো।’

এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, ‘মামা’ সম্বোধনটি কোনও আনুষ্ঠানিক উপাধি নয়। এটা মূলত সামাজিকভাবে গড়ে ওঠা জনপ্রিয় সম্বোধন। অসমের অধিকাংশ তরুণ-তরুণী ও ছাত্রছাত্রী মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মাকে ‘মামা’ বলে সম্বোধন করেন। অসমীয়া সংস্কৃতিতে ‘মামা’ শব্দটি আপনজন ও অভিভাবকসুলভ সম্পর্কের প্রতীক।

মুখ্যমন্ত্রীকে অনেক সমর্থক সেই ভাবনা থেকেই সম্বোধন করতে শুরু করেন। এছাড়া স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও যুবকদের জন্য বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প, বৃত্তি, আর্থিক সহায়তা এবং কর্মসংস্থানমূলক উদ্যোগের কারণে তাঁর সঙ্গে তরুণদের একটি ঘনিষ্ঠ ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজেও বিভিন্ন সময়ে ছাত্রছাত্রী ও তরুণদের উদ্দেশে চিঠি বা বার্তায় তাঁদের ‘ভাগিন’ (বাংলায় ভাগনে বা ভাগ্নে) বলে সম্বোধন করেন। এর জবাবেই অনেক তরুণ তাঁকে ‘মামা’ বলতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এখন ‘মামা’ সম্বোধনটি তাঁর জনসংযোগের একটি পরিচিত বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande