
কলকাতা, ৮ জুলাই (হি. স.): রাজ্যের ৫০ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম প্রদানের লক্ষ্যে বুধবার 'স্বচ্ছ কবচ' নামক একটি পাইলট প্রকল্পের সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এর পাশাপাশি চলতি বছরে রাজ্যজুড়ে সাত কোটি চারাগাছ রোপণ ও সেগুলির রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার কথাও ঘোষণা করেন তিনি। কলকাতার 'উত্তীর্ণ' অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই বিশেষ কর্মসূচিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের রাজ্যের পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার মেরুদণ্ড হিসেবে অভিহিত করে তাঁদের অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
এই উপলক্ষ্যে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের হাতে হাই-ভিজিবিলিটি জ্যাকেট, দস্তানা, গামবুট এবং অন্যান্য সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পরিচ্ছন্নতা কেবল সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং নাগরিক চেতনার এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর 'স্বচ্ছ ভারত অভিযান' আজ বিশ্বজুড়ে স্বীকৃতি পেয়েছে এবং এর ফলে দেশজুড়ে পরিচ্ছন্নতা নিয়ে এক নতুন চিন্তাভাবনার বিকাশ ঘটেছে। আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষ্যে কলকাতা ও বিধাননগর পুরনিগম যৌথভাবে যে 'স্বচ্ছতা সে স্বাগত' অভিযানের আয়োজন করেছিল, তার উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রেড রোডের সেই কর্মসূচির প্রশংসা খোদ প্রধানমন্ত্রীও করেছিলেন।
মুখ্যমন্ত্রী আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, বিগত ১৫ বছরে কলকাতায় ব্যাপক হারে গাছ কাটা হয়েছে এবং পাল্লা দিয়ে বেড়েছে কংক্রিটের নির্মাণ, যার ফলে পরিবেশের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণের প্রতি উদাসীনতা এবং ১৫ বছরের পুরনো যানবাহনের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপের অভাবই শহরের ক্রমবর্ধমান বায়ু দূষণের অন্যতম প্রধান কারণ। এই দূষণের জেরে শিশু, কিশোর এবং প্রবীণরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং বাড়ছে শ্বাসকষ্ট ও চর্মরোগ। শীতকালে বায়ুর গুণগত মান এতটাই বিপজ্জনক স্তরে পৌঁছে যায় যে চিকিৎসকদের প্রাতর্ভ্রমণ বন্ধ রাখার পরামর্শ দিতে হয়। শুভেন্দু অধিকারী জোর দিয়ে বলেন, শিলিগুড়ি, আসানসোল, দার্জিলিং থেকে শুরু করে দিঘা পর্যন্ত রাজ্যের সমস্ত শহরের উন্নয়ন হতে হবে সুষম এবং বহুমুখী। ফ্লাইওভার বা সড়ক সেতুর মতো আধুনিক পরিকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা, নিরাপদ পানীয় জল এবং সবুজায়ন বৃদ্ধির ওপরেও সমান গুরুত্ব দেওয়া আবশ্যক।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় 'এক পেড় মা কে নাম' অভিযানের অধীনে রাজ্য সরকার এই বছর সাত কোটি চারাগাছ লাগাবে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান। শুধু গাছ লাগানোই নয়, আগামী দুই বছর সেগুলির পরিচর্যার দায়িত্বও সরকার বহন করবে। একই সঙ্গে রাজ্যের ১০টি নগর সংস্থায় পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার ওপর নজরদারি ও অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য চালু হওয়া 'স্বচ্ছ অ্যাপ'-এর কথাও তিনি উল্লেখ করেন। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, নতুন সরকার দায়িত্বভার গ্রহণ করার মাত্র ছয় সপ্তাহের মধ্যেই উন্নয়ন ও পরিচ্ছন্নতাকে নিজেদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে শামিল করেছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত নগরোন্নয়ন ও পুর বিষয়ক মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল বলেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা হলেন সাফাই ব্যবস্থার প্রথম সারির যোদ্ধা, অথচ এতদিন তাঁদের পর্যাপ্ত সুরক্ষার ব্যবস্থা ছিল না। ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য ও ভারী যন্ত্রপাতির সঙ্গে কাজ করা এই কর্মীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতেই 'স্বচ্ছ কবচ' যোজনা আনা হয়েছে। এই কর্মসূচিতে কলকাতা পুরনিগম, বিধাননগর পুরনিগম, নিউ টাউন কলকাতা ডেভেলপমেন্ট অথরিটি-সহ রাজ্যের বিভিন্ন পুর সংস্থা ও উন্নয়ন পর্ষদের শীর্ষ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন এবং অনেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমেও যুক্ত হন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি