গালওয়ানের পরও চিনের প্রতি কেন্দ্রের নরম মনোভাব, অর্থনৈতিক নির্ভরতা বেড়েছে: খাড়গে
নয়াদিল্লি, ৯ জুলাই (হি.স.): গালওয়ান সংঘর্ষের ছয় বছর পরও ভারতের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে চিনের উপর অর্থনৈতিক নির্ভরতা বেড়েছে বলে অভিযোগ করলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তাঁর দাবি, কেন্দ্রের নীতির ফলে দেশের জাতীয় স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে


নয়াদিল্লি, ৯ জুলাই (হি.স.): গালওয়ান সংঘর্ষের ছয় বছর পরও ভারতের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে চিনের উপর অর্থনৈতিক নির্ভরতা বেড়েছে বলে অভিযোগ করলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তাঁর দাবি, কেন্দ্রের নীতির ফলে দেশের জাতীয় স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত এক পোস্টে খাড়গে অভিযোগ করেন, গালওয়ানে ২০ জন ভারতীয় সেনার আত্মবলিদানের পরও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কার্যত চিনকে ‘ক্লিন চিট’ দিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য, ভারতীয় সেনারা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করলেও কেন্দ্র সরকার দেশের স্বার্থের সঙ্গে আপস করেছে।

খাড়গের দাবি, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে চিন থেকে ভারতের আমদানি গালওয়ান-পরবর্তী সময়ের তুলনায় ১০১.৮১ শতাংশ বেড়েছে এবং দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে ১১২.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।

তিনি আরও বলেন, ভারতে আমদানি হওয়া অ্যান্টিবায়োটিকের প্রায় ৮৬ শতাংশই চিন থেকে আসে। এছাড়া এপিআই (অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট), বাল্ক ড্রাগ এবং ড্রাগ ইন্টারমিডিয়েট আমদানির প্রায় ৭৪ শতাংশও চিনের উপর নির্ভরশীল।

বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) শিল্পের প্রসঙ্গ তুলে কংগ্রেস সভাপতি বলেন, ভারতে ব্যবহৃত ইভি-র প্রায় ৬৬ শতাংশ যন্ত্রাংশ চিন থেকে আমদানি করা হয়। পাশাপাশি ইভিতে ব্যবহৃত প্রায় ৭৫ শতাংশ লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারিও আমদানিনির্ভর, যার অধিকাংশই চিন থেকে আসে। ২০২৫-২৬ সালে ভারতের আমদানি করা স্থায়ী চুম্বকের (পার্মানেন্ট ম্যাগনেট) ৯৩ শতাংশই চিন থেকে এসেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সৌরশক্তি ক্ষেত্রেও কেন্দ্রকে আক্রমণ করে খাড়গে বলেন, ২০২৫-২৬ সালে ভারতে আমদানি হওয়া আনডিফিউজড সিলিকন ওয়েফারের ৯৯ শতাংশেরও বেশি চিন থেকে এসেছে। ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর কথা বলা হলেও সৌরশক্তি ক্ষেত্রেও সরকার চিনের উপর অত্যধিক নির্ভরশীল বলে অভিযোগ তাঁর।

খাড়গের অভিযোগ, চারটি চিনা সংস্থাকে সরকারি বিদ্যুৎ প্রকল্পে দরপত্রে অংশ নেওয়ার অনুমতি দিয়ে কেন্দ্র সরকার চিনের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। পাশাপাশি নাগরিক সমাজের বিভিন্ন প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি দাবি করেন, অরুণাচল প্রদেশ ও লাদাখে চিন এখনও ভারতীয় ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশ চালিয়ে যাচ্ছে।

কংগ্রেস সভাপতি আরও বলেন, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় পাকিস্তানের কর্মকাণ্ডে চিনের ভূমিকার কথা ভারতীয় সেনার উপপ্রধানও উল্লেখ করেছিলেন, যা সরকারি নথিতেও লিপিবদ্ধ রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, গালওয়ানের পর কেন্দ্রের নীতির ফলেই ভারতের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে চিনের প্রভাব আরও শক্তিশালী হয়েছে।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande