
নয়াদিল্লি, ১ আগস্ট (হি.স.): কেন্দ্র সরকারের ‘ক্যাচ দ্য রেন ২০২৬’ অভিযানের আওতায় ওড়িশায় জল সংরক্ষণ ও ভূগর্ভস্থ জলের পুনর্ভরণে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজ্যে এখনও পর্যন্ত ৯৬৮টি জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি ৯০৫টি বৃষ্টির জল সংরক্ষণ ও ভূগর্ভস্থ জল পুনর্ভরণের পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছে এবং ৯৮টি ঐতিহ্যবাহী পুকুরের সংস্কার করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে ৮৪৯টি ছাদভিত্তিক বৃষ্টির জল সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং ৫৬টি রিচার্জ শ্যাফট তৈরি সম্পন্ন হয়েছে। জাজপুরে ৪৫টি, কেন্দ্রাপাড়ায় ১০টি এবং সুন্দরগড়ে একটি রিচার্জ শ্যাফট নির্মাণ করা হয়েছে।
এছাড়াও কটকে ৬২টি, সম্বলপুরে ৫৪টি, সুন্দরগড়ে ৫৩টি, কেন্দ্রাপাড়ায় ৪৮টি, ঝারসুগুড়ায় ২৫টি, বরগড়ে ১৬টি, পুরীতে ১৩টি, নয়াগড়ে ১২টি, অঙ্গুলে ১০টি, নবরঙ্গপুরে ৭টি এবং বলাঙ্গিরে ৪টি ছাদভিত্তিক জল সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।
জল সংরক্ষণের গুরুত্ব সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন প্রচার কর্মসূচি চালানো হয়েছে। খোরধা জেলায় সর্বাধিক ২৩০টি সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান করা হয়েছে। অন্যদিকে গঞ্জাম জেলায় সর্বাধিক ৩৩০টি ছাদভিত্তিক জল সংরক্ষণ ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে।
মন্ত্রক জানিয়েছে, রাজ্যের ৩০টি জেলায় ৯৮টি পুরনো পুকুরের সংস্কার ও পলি অপসারণের কাজ করা হয়েছে। এর ফলে বর্ষার জল ধরে রাখার ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং গ্রামীণ এলাকায় সেচ ব্যবস্থা ও জল সরবরাহে উন্নতি হয়েছে।
জল সংরক্ষণ নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে রাজ্যজুড়ে পথনাটিকা, লোকসংস্কৃতি ভিত্তিক অনুষ্ঠান এবং সামাজিক আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে। অঙ্গুলে ১২৪টি, ময়ূরভঞ্জে ৬০টি, নয়াগড় ও পুরীতে ৫০টি করে এবং গঞ্জামে ২০টি সচেতনতা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এছাড়া স্কুল ও কলেজের পড়ুয়াদের ভূগর্ভস্থ জল সংরক্ষণ, জল ব্যবস্থাপনা এবং বৃষ্টির জল ধরে রাখার প্রযুক্তি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে তারাও জল সংরক্ষণ অভিযানের অংশীদার হতে পারে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য