মুষলধারে বৃষ্টিতে কেরলমে বন্যা ও ধসের তাণ্ডব, মৃত পাঁচ
তিরুবনন্তপুরম, ১ আগস্ট (হি.স.): কেরলমে লাগাতার মুষলধারে বৃষ্টির জেরে বিপর্যস্ত জনজীবন। রাজ্যের একাধিক জেলায় বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। ইডুক্কি ও কোট্টায়াম জেলায় পৃথক ধসের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। আরও কয়েকজন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে
মুষলধারে বৃষ্টিতে কেরলমে বন্যা ও ধসের তাণ্ডব, মৃত পাঁচ


তিরুবনন্তপুরম, ১ আগস্ট (হি.স.): কেরলমে লাগাতার মুষলধারে বৃষ্টির জেরে বিপর্যস্ত জনজীবন। রাজ্যের একাধিক জেলায় বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। ইডুক্কি ও কোট্টায়াম জেলায় পৃথক ধসের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। আরও কয়েকজন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রশাসনের তরফে জোরকদমে চলছে উদ্ধার ও ত্রাণকাজ।

প্রবল বৃষ্টির পর রাজ্যের মধ্য ও উত্তরাংশের পাহাড়ি এলাকাগুলিতে পরিস্থিতির অবনতি হয়। ইডুক্কি, কোট্টায়াম এবং পাঠানামথিট্টার বিভিন্ন এলাকায় ভূমিধসের পাশাপাশি নিচু এলাকাগুলিতে জল জমে বন্যার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একাধিক রাস্তা জলের তলায় চলে যাওয়ায় ব্যাহত হয়েছে যান চলাচল।

ইডুক্কি জেলার কুডায়াথুরের আদুরমালা এলাকায় ধসের জেরে একটি বাড়ি মাটির নিচে চাপা পড়ে যায়। ঘটনায় সুমতি নামে এক মহিলা ও তাঁর ছেলের মৃত্যু হয়েছে। বাড়িতে আটকে থাকা আরও দু’জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যদিকে, ভ্যাগামনের কোলাহালামেডু এলাকায় পাহাড় থেকে মাটি ও পাথর ধসে পড়ে ৭২ বছরের প্রবীণ প্রভাকরণ নায়ারের মৃত্যু হয়েছে।

কোট্টায়াম জেলাতেও প্রবল বৃষ্টির জেরে একাধিক জায়গায় ধস নামে। পুঞ্জার এলাকায় একটি বাড়ির উপর ধস নেমে একই পরিবারের দুই সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় জলমগ্ন পরিস্থিতির মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে।

পাঠানামথিট্টা জেলাতেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। পাহাড়ি এলাকা থেকে নেমে আসা জলের কারণে রানি শহরে পাম্বা নদীর জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। নিচু এলাকাগুলি জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতিরিক্ত নৌকা নামানো হয়েছে এবং উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রবল বৃষ্টির কারণে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও গাছ পড়ে, কোথাও ধসের মাটিতে পথ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিস, পুলিশ, রাজস্ব দফতর ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মীরা উদ্ধার অভিযানে নেমেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে কয়েকটি জেলায় স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ নদী, জলাধার ও ধসপ্রবণ এলাকাগুলিতে নজরদারি বাড়িয়েছে।

আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন কেরলমের বিভিন্ন অংশে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। প্রশাসনের তরফে পাহাড়ি ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার, অপ্রয়োজনীয় যাত্রা এড়ানোর এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার আবেদন জানানো হয়েছে।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande