
আগরতলা, ২১ আগস্ট (হি.স.) : ত্রিপুরার ২১৩টি বিদ্যালয়ের পরিকাঠামোগত উন্নয়নে ১১৭৮ কোটি ৪৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও ২৪০টি সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বিদ্যালয়কে পর্যায়ক্রমে পরিকাঠামো উন্নয়ন ও সংস্কারের আওতায় আনা হবে। শুক্রবার আগরতলায় পিএম শ্রী এডি নগর ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে নতুন ভবন নির্মাণের শিলান্যাস ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে এই কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা।
এদিন রাজ্যের পাঁচটি বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ ও সংস্কার কাজের শিলান্যাস করেন মুখ্যমন্ত্রী। পিএম শ্রী এডি নগর ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলির নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও ভূমিপূজন অনুষ্ঠিত হয়। একইসঙ্গে বড়দোয়ালী উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নেতাজী সুভাষ বিদ্যানিকেতন, চাড়িপাড়া উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং হাঁপানিয়া উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণ কাজের ভার্চুয়াল শিলান্যাস করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিদ্যালয়গুলিতে উন্নত পরিকাঠামো গড়ে তোলার উপর রাজ্য সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ২১৩টি বিদ্যালয়ের পরিকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ মঞ্জুর করা হয়েছে। আগামী দিনে আরও ২৪০টি সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বিদ্যালয়কে এই উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। এর ফলে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ আরও উন্নত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রতিটি দফতরের জন্য সংস্কারমূলক কাজের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ করে অর্থ প্রদান করা হয়েছে। বিভিন্ন দফতরে সংস্কার ও উন্নয়নমূলক কাজ যথাযথভাবে হচ্ছে কিনা, তা খতিয়ে দেখার জন্য রাজ্যের মুখ্য সচিবকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয় ও সরকারি পরিকাঠামোর উন্নয়নের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির কার্যক্রমের উপরও নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।
শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ছাত্রছাত্রীদের প্রাইভেট টিউশনের উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমাতে বিদ্যালয়গুলিতে ‘অ্যানালাইটিক পাওয়ার ইন্টারেক্টিভ ভিজুয়াল ক্লাসরুম’ চালু করা হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই শ্রেণিকক্ষের মাধ্যমে পড়াশোনাকে আরও আকর্ষণীয় ও সহজবোধ্য করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলা ও ইংরেজি—দুই মাধ্যমেই ছাত্রছাত্রীদের এই ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির এই সুযোগ ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাই বিদ্যালয়ে চালু হওয়া এই সুযোগগুলি যাতে ছাত্রছাত্রীরা যথাযথভাবে গ্রহণ করে, সে বিষয়ে অভিভাবকদেরও নজর দেওয়ার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, বিধাযক মীনা রানি সরকার সহ সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিক, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ