
সুলতানপুর, ২১ আগস্ট (হি.স.): উত্তর প্রদেশের সুলতানপুরে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মানহানি মামলায় শুক্রবার এমপি-এমএলএ আদালতে শুনানি হয়। উভয় পক্ষের আইনজীবীদের আবেদন ও সওয়াল শোনার পর আদালত পরবর্তী শুনানির দিন ৩ সেপ্টেম্বর ধার্য করেছে। ওই দিন মামলার শুনানি ও সওয়াল-জবাব সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক বলে আদালত স্পষ্ট করেছে।
রাহুল গান্ধীর আইনজীবী কাশী প্রসাদ শুক্ল জানান, শুক্রবার মামলায় সওয়াল হওয়ার কথা ছিল। তবে মামলার অভিযোগকারী বিজয় মিশ্রের আইনজীবী সন্তোষ পাণ্ডে এলাহাবাদ হাই কোর্টে একটি আবেদন করার জন্য আরও সময় চান। সংশ্লিষ্ট নথির প্রতিলিপি পেতে দেরি হওয়ায় এখনও আবেদনটি দাখিল করা সম্ভব হয়নি বলে আদালতকে জানান তিনি। তাঁর আবেদন মঞ্জুর করে আদালত সময় দিয়েছে।
অভিযোগকারীর আইনজীবী সন্তোষ পাণ্ডে জানান, রাহুল গান্ধীর কণ্ঠস্বরের নমুনা মিলিয়ে দেখার আবেদন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এবং রিভিশনাল আদালত খারিজ করে দিয়েছিল। সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে আবেদন করতে চান তাঁরা। নথির প্রতিলিপি পেতে দেরি হওয়ায় সময় চাওয়া হয়েছিল।
এই মামলাসংক্রান্ত একটি রিভিশন আবেদন এডিজে আদালতেও বিচারাধীন ছিল। ১৫ জুলাইয়ের শুনানিতে সেই আবেদন খারিজ হয়ে যায়। আবেদন খারিজের পর মূল নথি নিম্ন আদালতে ফেরার কথা ছিল। এরপরই মানহানি মামলায় সওয়াল হওয়ার কথা। রাহুল গান্ধীর কণ্ঠস্বরের নমুনা সংক্রান্ত ওই রিভিশন আবেদনটি এডিজে আদালতের পঞ্চম বেঞ্চে বিচারাধীন ছিল।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে কর্ণাটক বিধানসভা নির্বাচনের সময় বিজেপির তৎকালীন সভাপতি অমিত শাহকে নিয়ে রাহুল গান্ধীর একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে মামলাটি দায়ের হয়। ওই মন্তব্যে আহত হয়ে বিজেপি নেতা বিজয় মিশ্র সুলতানপুরের এমপি-এমএলএ আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন।
আদালত থেকে পরোয়ানা জারির পর ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি প্রথমবার আদালতে হাজির হন রাহুল গান্ধী। তাঁকে ২৫ হাজার টাকা করে দুটি মুচলেকায় জামিন দেওয়া হয়। পরে ২০২৪ সালের ২৬ জুলাই আদালতে নিজের বক্তব্য রেকর্ড করান তিনি। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি মামলায় নিজের পক্ষ রাখতে আদালতে হাজির হয়েছিলেন রাহুল গান্ধী।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য