
ঝাড়গ্রাম, ২১ আগস্ট (হি.স.): সাধারণ মানুষের পরিচয়পত্র ও প্রয়োজনীয় নথি ব্যবহার করে তাঁদের অজান্তেই সিম কার্ড তুলে তা সাইবার প্রতারকদের কাছে বিক্রির অভিযোগ। এই চক্রের তদন্তে সাঁকরাইলে ফের এক যুবককে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতের নাম পঙ্কজ রানা। বৃহস্পতিবার গড়ধরা গ্রামের বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। শুক্রবার ধৃতকে ঝাড়গ্রাম আদালতে পেশ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ফেক সিম কার্ড সরবরাহের এই চক্রের তদন্তে এর আগে সাঁকরাইল থানার পুলিশ খোকন দত্ত ও মৃণাল কান্তি দাস নামে দু’জনকে গ্রেফতার করেছিল। খোকনের বয়স ৩৩ বছর এবং তাঁর বাড়ি বহড়াদাঁড়ি গ্রামে। অন্যদিকে, ২৮ বছরের মৃণালের বাড়ি কুবদা গ্রামে।
অভিযোগ, বিভিন্ন ব্যক্তির পরিচয়পত্র ও অন্যান্য নথি সংগ্রহ করে তাঁদের অজান্তেই সেই নথির ভিত্তিতে সিম কার্ড তোলা হত। পরে ওই সিম কার্ড মোটা টাকার বিনিময়ে সাইবার প্রতারণায় যুক্ত ব্যক্তিদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হত।
রাজ্য সাইবার অপরাধ দমন শাখার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাঁকরাইল থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্ত যত এগোয়, ততই সামনে আসে ফেক সিম কার্ড সরবরাহকারী একটি চক্রের তথ্য। সেই সূত্রেই খোকন ও মৃণালকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশি হেফাজতে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে পঙ্কজ রানার নাম উঠে আসে বলে তদন্তকারীদের দাবি। এরপরই তাঁর সন্ধানে তল্লাশি শুরু হয়। বৃহস্পতিবার গড়ধরা গ্রামের বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
তদন্তকারীদের দাবি, চক্রটির মূল কৌশল ছিল সাধারণ মানুষের পরিচয়পত্র এবং প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করে তাঁদের অজ্ঞাতসারে সেই নথিতে সিম কার্ড তোলা। পরে সেই সিম চড়া দামে সাইবার প্রতারকদের কাছে বিক্রি করা হত। এর ফলে কোনও প্রতারণার ঘটনায় সেই সিম ব্যবহার হলে, প্রকৃত বিষয়টি না জেনেও নথির আসল মালিককে সমস্যায় পড়তে হত।
পঙ্কজকে গ্রেফতারের পর তদন্তকারীদের নজরে এসেছে চক্রটির আরও একাধিক দিক। তাঁর মাধ্যমে ঠিক কতগুলি সিম কার্ড সরবরাহ করা হয়েছিল, কারা সেগুলি নিয়েছিল এবং ওই সিমগুলি কোন কোন সাইবার অপরাধে ব্যবহার করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি সিম সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত এজেন্ট ও ডিস্ট্রিবিউটরদের ভূমিকাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারীদের অনুমান, এই চক্রের শিকড় আরও গভীরে থাকতে পারে। পঙ্কজকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চক্রের সঙ্গে যুক্ত অন্যদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্ত এখনও চলছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো