
বিশাখাপত্তনম, ২১ আগস্ট (হি.স.): অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে আরএসএস-এর অখিল ভারতীয় সমন্বয় বৈঠকের শেষ দিনে আরএসএস-এর সহ-সরকার্যবাহ সি.আর. মুকুন্দ বলেন, প্রস্তাবিত বিষয়টির প্রসঙ্গে বলি, প্রায় তিন বছর আগে যখন আমরা আরএসএস-এর শতবর্ষের কর্মসূচির পরিকল্পনা করছিলাম, তখনই আমরা এই ‘পঞ্চ পরিবর্তন’-এর কথা ভেবেছিলাম। আমরা অনুভব করেছিলাম, দেশের যে কোনও কাঠামোগত পরিবর্তনের পূর্বশর্ত হলো সামাজিক রূপান্তর। সামাজিক রূপান্তর নিয়ে আলোচনার সময় আমরা পাঁচটি মূল ক্ষেত্র চিহ্নিত করেছিলাম। এর মধ্যে অন্যতম একটি ক্ষেত্র হলো পরিবেশ সুরক্ষা। এটি কেবল সুরক্ষার বিষয় নয়, বরং পরিবেশকে আমরা কীভাবে দেখি বা অনুভব করি, তারও বিষয়। আমাদের পূর্বপুরুষ এবং ঋষি-মুনিরা বিশ্বাস করতেন যে সমগ্র সৃষ্টি একে অপরের সাথে সংযুক্ত এবং আমরা তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। দৈনন্দিন আচরণের ক্ষেত্রে আমাদের মনে হয়, প্রতিটি ব্যক্তি ও পরিবার অন্তত তিনটি ক্ষেত্রে অবদান রাখতে পারে।
সি.আর. মুকুন্দ বলেন, সংঘের শতবর্ষ উপলক্ষে আমরা বিশ্বব্যাপী যোগাযোগের প্রসারের ওপর জোর দিচ্ছি। আমাদের কয়েকজন প্রবীণ সদস্য মনে করেছিলেন যে, দুই-তিনটি কারণে বিভিন্ন দেশের মূলধারার সমাজের কাছে আমাদের পৌঁছানো প্রয়োজন। এর মধ্যে একটি হলো ভারত, হিন্দু এবং আরএসএস সম্পর্কে একটি ইতিবাচক ধারণা বা বয়ান তৈরি করা। হিন্দু, ভারত এবং আরএসএস সম্পর্কে প্রচুর ভুল তথ্য ও ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। এর মোকাবিলায় আমাদের একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি বা বয়ান গড়ে তুলতে হবে। এটি আমাদের অন্যতম একটি উদ্দেশ্য।
মুকুন্দ বলেন, যেমনটা আমি বলেছি, প্রতি বছর ২১,০০০ তরুণ স্বয়ংসেবক আমাদের ২১ দিনের প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশ নেয়। এ বছরও ২১,০০০ তরুণ স্বয়ংসেবক প্রশিক্ষণ শিবিরে যোগ দিয়েছে। আমি কেবল একটি উদাহরণ দিচ্ছি: আমাদের সমস্ত শাখায় দৈনিক উপস্থিতির মধ্যে ৬০ শতাংশেরও বেশি হলো তরুণরা। আমরা তাদের মধ্যে কাজ করি, তাই আমরা বুঝতে পারি তারা কী ভাবে এবং কীভাবে চিন্তা করে।
আরএসএস-এর সহ-সরকার্যবাহ সিআর মুকুন্দ বলেন, যখনই আমরা মিলিত হই—অর্থাৎ ৪০টিরও বেশি সংগঠন—তখন আমরা আলোচনা করি কীভাবে আগামী বছরগুলোতে আমাদের কাজের পরিধি বাড়ানো যায়। আমরা আলোচনা করেছি কীভাবে আমাদের সংগঠনকে সম্প্রসারিত করা যায় এবং আমাদের জাতীয়তাবাদী আদর্শ ও চিন্তাধারাকে... ...সমাজের প্রতিটি স্তরে আমাদের কার্যক্রম পৌঁছে দেওয়া। আমরা একে বলি ‘কার্য বিস্তার’ বা কাজের প্রসার—এটি কেবল একটি দর্শনই নয়, বরং এর একটি সাংগঠনিক দিকও রয়েছে। আমরা এখানে এ বিষয়ে আলোচনা করেছি...হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সংবাদ