
ভুবনেশ্বর, ২১ আগস্ট (হি.স.) : ওড়িশার প্রবীণ নেপথ্যশিল্পী (প্লে -ব্যাক ) তথা সংগীত জগতের অন্যতম পরিচিত কণ্ঠ প্রণব পট্টনায়কের শুক্রবার ভুবনেশ্বরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে প্রয়াণ হয়েছে। বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। তাঁর মৃত্যুতে ওড়িয়া সংগীত ও চলচ্চিত্র জগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
১৯৩৮ সালের ২০ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন প্রণব পট্টনায়ক। ওড়িশার সংগীত ঐতিহ্যের অন্যতম পরিচিত কণ্ঠ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে শ্রোতাদের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। বাবা লালমোহন পট্টনায়কের কাছ থেকেই সংগীতের প্রতি গভীর অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন। পরে গুরু কুণাল আদিনারায়ণের কাছে সংগীতে প্রথাগত তালিম নেন। ১৯৫৮ সালে ‘মা’ ছবির মাধ্যমে নেপথ্যশিল্পী হিসেবে তাঁর চলচ্চিত্র জগতে আত্মপ্রকাশ।
ছয় দশকেরও বেশি দীর্ঘ সংগীতজীবনে ২০০-র বেশি ওড়িয়া ছবিতে কণ্ঠ দিয়েছেন প্রণব। রাজ্যের প্রায় সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সংগীত পরিচালকের সঙ্গেই কাজ করেছেন তিনি। স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর, বিস্তৃত স্বরসীমা এবং নিজস্ব গায়কির কারণে ওড়িয়া সংগীতপ্রেমীদের কাছে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন।
সাতবার রাজ্য চলচ্চিত্র পুরস্কার
সেরা নেপথ্যশিল্পী হিসেবে সাতবার ওড়িশা রাজ্য চলচ্চিত্র পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন প্রণব পট্টনায়ক। ‘সিন্দুর বিন্দু’ (১৯৭৬), ‘অস্তরাগ’ (১৯৮২), ‘ঝিয়টি সীতা পরী’ (১৯৮৩), ‘কন্যাদান’ (১৯৮৮), ‘প্রতিশোধ অপরাধ নয়’ (১৯৮৯) এবং ‘আশা’ (১৯৯৩)-সহ একাধিক ছবিতে তাঁর গানের জন্য এই সম্মান দেওয়া হয়।
তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ওড়িশা সংগীত নাটক অ্যাকাডেমি পুরস্কার (১৯৯৭-৯৮), বিগ ওড়িয়া এন্টারটেইনমেন্ট অ্যাওয়ার্ড (২০১০), প্রফুল্ল কর সম্মান (২০১১), জয়দেব পুরস্কার (২০১৬), গঙ্গাধর রথ মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড (২০১৭) এবং ওড়িয়া সংগীতে আজীবন অবদানের জন্য বালকৃষ্ণ দাস মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড (২০২৩)-এর মতো একাধিক সম্মান।
‘শ্রী লোকনাথ’, ‘সূর্যমুখী’, ‘সিন্দুর বিন্দু’, ‘শেষ শ্রাবণ’, ‘চিহ্ন অচিহ্ন’ এবং ‘বাটিঘর’-এর মতো ছবির গান তাঁকে জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছে দেয়।
ওড়িশি, লোক, ভক্তিমূলক, অর্ধশাস্ত্রীয় ও ঐতিহ্যবাহী সংগীতের পাশাপাশি হিন্দি গান এবং গজলেও নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন প্রণব। দীর্ঘ সংগীতজীবনে হেমলতা, বাণী জয়রাম, এস. জানকী, পি. সুশীলা, নির্মলা মিশ্র, ভূপেন্দ্র সিং, ঊষা মঙ্গেশকর এবং হৈমন্তী শুক্লার মতো বিশিষ্ট শিল্পীদের সঙ্গে মঞ্চ ও স্টুডিয়ো ভাগ করে নিয়েছেন তিনি।
প্রণব পট্টনায়কের প্রয়াণে ওড়িয়া সংগীতজগত হারাল তার এক স্বতন্ত্র ও জনপ্রিয় কণ্ঠকে। ছয় দশকেরও বেশি সময়ের তাঁর সমৃদ্ধ সংগীতযাত্রা এবং কালজয়ী গান আগামী প্রজন্মের শ্রোতাদের কাছেও তাঁকে স্মরণীয় করে রাখবে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য