
ঝাড়গ্রাম, ২১ আগস্ট (হি.স.): রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে চাষাবাদে কৃষকদের উৎসাহিত করতে ঝাড়গ্রামে ৪৬ জন মহিলা ‘কৃষি সখী’কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হল। কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত পাঁচ দিনের আবাসিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুক্রবার শেষ হয়েছে।
ঝাড়গ্রাম, নয়াগ্রাম ও গোপীবল্লভপুরের বিভিন্ন ক্লাস্টার এলাকা থেকে এই কৃষি সখীদের বেছে নেওয়া হয়। কৃষি দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধুমাত্র স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের পরিবর্তে কৃষক পরিবারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এবং নিজের জমিতে চাষ করেন, এমন মহিলাদেরই প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।
প্রশিক্ষণ শেষে এই মহিলারাই ‘মাস্টার ট্রেনার’ হিসেবে কাজ করবেন। তাঁদের মাধ্যমে এলাকার অন্যান্য কৃষকদের প্রাকৃতিক চাষের পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
কদমকাননে কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রে আয়োজিত প্রশিক্ষণ শিবিরে কৃষি বিজ্ঞানীরা হাতে-কলমে প্রাকৃতিক চাষের বিভিন্ন কৌশল দেখান। গোবর, গোমূত্র, দই, দুধ ও ঘি-সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে ‘বীজামৃত’ ও ‘জীবামৃত’ তৈরির পদ্ধতি শেখানো হয়। মাটির উর্বরতা বাড়াতে দেশি কেঁচোর ব্যবহারের উপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রথম পর্যায়ে বাদশাভোগ, গোবিন্দভোগ ও ব্ল্যাক রাইসের মতো সুগন্ধি ধান এবং বিষমুক্ত শাকসবজি চাষে এই পদ্ধতি প্রয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় একজন কৃষি সখী ১২৫ জন কৃষককে প্রশিক্ষণ দেবেন। সব মিলিয়ে প্রায় ১১৫০ হেক্টর জমিকে প্রাকৃতিক চাষের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ক্লাস্টারে থাকবে ৫০ হেক্টর জমি এবং ১২৫ জন কৃষক।
প্রশিক্ষণের শেষ দিনে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের কৃষি প্রতিমন্ত্রী অমিয় কিস্কু। তিনি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অগ্রগতি খতিয়ে দেখেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।
কৃষি দফতরের আশা, প্রশিক্ষিত কৃষি সখীদের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে প্রাকৃতিক চাষের প্রসার ঘটবে। এর ফলে জঙ্গলমহলে রাসায়নিক নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি বিষমুক্ত কৃষিপণ্যের উৎপাদনও আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো