৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৭২ ঘন্টার ত্রিপুরা বনধের ডাক আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিদের
আগরতলা, ২১ আগস্ট (হি.স.) : ত্রিপাক্ষিক চুক্তি বাস্তবায়নে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে টালবাহানার অভিযোগ তুলে আগামী ৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৭২ ঘন্টার ত্রিপুরা বনধের ডাক দিল এনএলএফটি ও এটিটিএফ জঙ্গি সংগঠনের আত্মসমর্পণকারী সদস্যরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্
সাংবাদিক সম্মেলনে আত্মসমর্পণকারীরা


আগরতলা, ২১ আগস্ট (হি.স.) : ত্রিপাক্ষিক চুক্তি বাস্তবায়নে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে টালবাহানার অভিযোগ তুলে আগামী ৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৭২ ঘন্টার ত্রিপুরা বনধের ডাক দিল এনএলএফটি ও এটিটিএফ জঙ্গি সংগঠনের আত্মসমর্পণকারী সদস্যরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। শুক্রবার আগরতলা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে এই কর্মসূচির কথা ঘোষণা করা হয়।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কেন্দ্রের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতির আওতায় বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে পৃথক পৃথকভাবে ত্রিপাক্ষিক চুক্তি সম্পাদন করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট অব ত্রিপুরা (এনএলএফটি) এবং অল ত্রিপুরা টাইগার ফোর্স (এটিটিএফ)-এর সঙ্গেও কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের ত্রিপাক্ষিক চুক্তি হয়।

চুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর জম্পুইজলার টিএসআর কার্যালয়ে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা, মুখ্যসচিব জে কে সিনহা-সহ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে এনএলএফটি ও এটিটিএফ-এর প্রায় ৫৮২ জন সদস্য অস্ত্র সমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন।

আত্মসমর্পণের পর চুক্তিতে উল্লেখিত বিভিন্ন শর্ত পূরণের মাধ্যমে পুনর্বাসন ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ তৈরি হবে বলে তাঁরা আশা করেছিলেন। কিন্তু তাঁদের অভিযোগ, আত্মসমর্পণের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও চুক্তির বিভিন্ন শর্ত বাস্তবায়নে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রত্যাশিত উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে পুনর্বাসন, সুযোগ-সুবিধা এবং চুক্তিতে নির্ধারিত দাবিগুলি নিয়ে তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে।

আগামী ৪ সেপ্টেম্বর ত্রিপাক্ষিক চুক্তির দুই বছর পূর্ণ হতে চলেছে। অথচ এখনও তাঁদের দাবিগুলির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না হওয়ায় এবার আন্দোলনের পথে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আত্মসমর্পণকারী সদস্যরা। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৪ সেপ্টেম্বর থেকে টানা ৭২ ঘণ্টার বনধের ডাক দেওয়া হয়েছে।

সাংবাদিক সম্মেলনে এনএলএফটি-র নেতৃত্বে থাকা পরিমল দেববর্মা, প্রসেনজিৎ দেববর্মা-সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরিমল দেববর্মা জানান, তাঁদের আন্দোলন বৈধ ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই পরিচালিত হবে। ৭২ ঘন্টার বনধ চলাকালীন রাজ্যের বিভিন্ন জাতীয় সড়ক অবরোধের পাশাপাশি রেল অবরোধের কর্মসূচিও নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, ৭২ ঘন্টার আন্দোলনের পরও যদি সরকার তাঁদের দাবি পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যেতে বাধ্য হবেন তাঁরা। চুক্তি অনুযায়ী প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা ও দাবিগুলি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কাছে ফের আবেদন জানান তিনি।

এদিকে, দীর্ঘ দুই বছর পরেও ত্রিপাক্ষিক চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে অসন্তোষ প্রকাশ্যে আসায় বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। ৪ সেপ্টেম্বরের বন্ধকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায় এবং সরকার তাঁদের দাবির বিষয়ে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande