ঐতিহ্যবাহী 'ইসনা'-কে স্বমহিমায় পেতে চায় দোসর সুলেখা
কলকাতা, ২২ আগস্ট (হি স)। ১৯৩৪ সালে স্বদেশি আন্দোলনের সময় বাংলার দুই ভাই মহাত্মা গান্ধীর অনুপ্রেরণায় এবং সতীশচন্দ্র দাশগুপ্তের সূত্র অনুযায়ী বিখ্যাত সুলেখা কালি প্রস্তুত করেন। সেই মৈত্র পরিবারের বর্তমান শরিক, সুলেখা ওয়ার্কস লিঃ-এর এম ডি কৌশিক মৈত্


ইন্ডিয়ান সায়েন্স

কলকাতা, ২২ আগস্ট (হি স)। ১৯৩৪ সালে স্বদেশি আন্দোলনের সময় বাংলার দুই ভাই মহাত্মা গান্ধীর অনুপ্রেরণায় এবং সতীশচন্দ্র দাশগুপ্তের সূত্র অনুযায়ী বিখ্যাত সুলেখা কালি প্রস্তুত করেন। সেই মৈত্র পরিবারের বর্তমান শরিক, সুলেখা ওয়ার্কস লিঃ-এর এম ডি কৌশিক মৈত্র শুক্রবার সন্ধ্যায় কলকাতায় ইন্ডিয়ান সায়েন্স নিউজ অ্যাসোসিয়েশন ('ইসনা') আয়োজিত ষষ্ঠ বিশ্বপতি মুখার্জি স্মারক বক্তৃতায়

এক আলোচনাসভার প্রাক্কালে জানালেন ভাঙাগড়ার এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই বাঙালি আশার আলো দেখতে পারে।

সুলেখা এবং 'ইসনা'-র জন্ম যথাক্রমে ১৯৩৪ ও ১৯৩৫-এ। প্রথমটি রাজশাহীর ননিগোপাল মৈত্র ও শঙ্করাচার্য মৈত্রর হাত ধরে। দ্বিতীয়টির যাত্রা শুরু আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়, অধ্যাপক মেঘনাদ সাহার মতো কিছু অবিস্মরণীয় বিজ্ঞানীর সক্রিয়তায়। দুটি সংস্থাই প্রায় চোখের আড়ালে এগিয়ে চলেছে শতবর্ষের দিকে।

অম্বিকাচরণ মৈত্র ও মা সত্যবতী দেবীর অবদান এবং ত্যাগের মাধ্যমেই ঐতিহাসিক স্বদেশী ব্র্যান্ড সুলেখা গড়ে উঠেছিল। বাড়ির সবাই মিলে প্রথম কালির ব্যাচ তৈরি শুরু করেন। মহাত্মা গান্ধী এই কালির নাম দিয়েছিলেন 'সুলেখা' (যার অর্থ সুন্দর লেখা যায় যা দিয়ে)। ব্রিটিশ পণ্য বয়কটের ডাকের সময় দেশের নেতাদের লেখার কাজের জন্য এই স্বদেশি কালি বড় ভূমিকা রেখেছিল। মৈত্র পরিবারের উত্তরসূরি

কৌশিকবাবু ঐতিহ্যবাহী ব্র্যান্ডটিকে টিকিয়ে রেখেছেন, নতুন পণ্যের পাশাপাশি প্রিন্টার কালি ও সৌর শক্তির কাজ করছেন।

শুক্রবার তিনি বাংলার বিজ্ঞানচর্চার ইতিহাসে 'ইসনা'-র দীর্ঘ সক্রিয়তা ও নিষ্ঠার কথা জেনে সন্তোষ প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে তাঁর ভাষণে বলেন, এককভাবে নয়, সমমনস্ক বাঙালি উদ্যোগ প্রিয়া একত্রিত হয়ে বিজ্ঞানচর্চার কাজে সহায়ক হতে পারে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে জনমুখী একটি প্রকল্পের সঙ্গে আছি। অনেকে নানা প্রকল্পে যথাসম্ভব সহায়তা করছে। কিন্তু এক ছাতার তলায় পরিকল্পিতভাবে করতে পারলে সামগ্রিক সুফল মিলবে।

কৌশিক মৈত্র বলেন, প্রয়োজনে শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক সংগঠন এবং সময় বিশেষে পড়ুয়াদের এইসব গঠনমূলক কাজে সামিল করতে হবে। আমরা যতই বিদেশ দেখি, উন্নতি করতে হবে দেশেরই। কলকাতায় গুরুত্ব কতটা, তা ভুললে চলবে না। আজ আমরা কেন, কতটা পিছিয়ে গিয়েছি, সেই বিশ্লেষণে না গিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সঠিক পথ ধরতে হবে। যা করতে হবে, তাড়াতাড়ি করতে হবে।

অনুষ্ঠানে ইন্ডিয়ান সায়েন্স নিউজ অ্যাসোসিয়েশনের ('ইসনা') অবৈতনিক সম্পাদক অধ্যাপক অমিতকৃষ্ণ দে সংগঠনের কার্যাবলী এবং এর সঙ্গে যুক্ত বিশিষ্টজনের অবদান, বাংলা ও ইংরেজিতে দুটি বিজ্ঞান সাময়িকীর বিকাশের এবং আগামীতে আবার বক্তৃতামালা শুরুর কথা জানান।

এ ছাড়াও এদিনের অনুষ্ঠানে বলেন ষষ্ঠ বিশ্বপতি মুখার্জি স্মারক বক্তৃতায় আলোচনাসভার মূল আলোচক তথা বিদ্যাসাগর কলেজের অধ্যাপক অরুনাভ মিশ্র, 'ইসনা'-র সভাপতি, তথা ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিসটিক্যাল ইন্সটিট্যুটের অর্থনীতি বিভাগের অতিথি অধ্যাপক, অক্সফোর্ডের প্রাক্তনী ও সাহা ইন্সটিট্যুট অফ নিউক্লিয়ার ফিজিক্সের প্রাক্তন অধিকর্তা অধ্যাপক বিকাশ চক্রবর্তী, 'ইসনা'-র সহ-সভাপতি প্রশান্ত বসু, 'ইসনা'-র পরিচালনমন্ডলীর সদস্য অধ্যাপক ডঃ অর্ণব কুমার ব্যানার্জি প্রমুখ।

মুক্তচিন্তা ও যুক্তিপূর্ণ বিশ্লেষণ কীভাবে ব্যক্তি ও সমাজকে প্রভাবিত করে, শুক্রবার সেই আলেখ্য এই আলোচনাসভায় বিশদে পেশ করলেন অধ্যাপক (Inorganic Chemistry) অরুনাভ মিশ্র। ইন্ডিয়ান সায়েন্স নিউজ অ্যাসোসিয়েশন (ইসনা) আয়োজিত ষষ্ঠ বিশ্বপতি মুখার্জি স্মারক বক্তৃতায় 'যুক্তিবাদ ও ভারতবর্ষ' (Rationalism and India) শীর্ষক আলোচনায় তিনি ভারত ও পশ্চিমী দেশের সংশ্লিষ্ট ভাবনার পরিবর্তনের ধারা ব্যখ্যা করেন।

যুক্তিবাদ বলতে কী বুঝি, সেই প্রসঙ্গে বিদ্যাসাগর কলেজের রসায়নের অধ্যাপক অরুনাভবাবু বলেন, এখানে ধর্মীয় বিশ্বাস বা আবেগের জায়গা নেই। ভারতের মতো সব দেশেই কোনও না কোনও সময়ে বিশ্বাস ও যুক্তির বিরোধ হয়েছে। আমরা

মুক্তচিন্তা ও যুক্তিপূর্ণ বিশ্লেষনী মনোভাব চিহ্নিত করার চেষ্টা করেছি। গ্রহণ ও বর্জন করেছি প্রমাণের ভিত্তিতে।

যুক্তিবাদীরা স্কেপটিক অর্থাৎ সংশয়বাদী। স্কেপটিসিজম যুক্তিবাদের গোড়ার কথা। এই মন্তব্য করে অরুনাভবাবু ভারতের 'হেতুবাদ', বিশ্বখ্যাত পশ্চিমী চিন্তাবিদের ভাবনা ও তাঁর বইয়ের উল্লেখ করে পশ্চিমী ও ভারতের যুক্তিবাদের তুলনা করেন।

উল্লেখ করেন বেদ, উপনিষদের কথা। আলোকপাত করেন কীভাবে মনুসংহিতায় দেখা হ'ত নারী, দলিত ও সার্বিক সমাজকে। মার্কুইস ওয়েলেসলি গভর্নর থাকাকালীন কিভাবে 'রেগুলেশন সিক্স'-এর সহায়তায় এদেশে প্রচলিত গঙ্গায় সন্তান বিসর্জন প্রথা বিলোপ করেছিলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'মল্লিকা'/'বিসর্জন'-এ কিভাবে ফুটে উঠেছিল সেই বিসর্জনের ছবি, সেই ব্যাখ্যাও দেন অরুনাভবাবু। ১৮০২-এর ২৩ আগস্ট নাকি এ রকম ২৩ জনের খোঁজ পাওয়া গিয়েছিল।

রাজা রামমোহন থেকে বিদ্যাসাগরের যুক্তিবাদ, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় থেকে মীর মোশাররফ হোসেনের ভাবনা, ইতালিয় পদার্থবিদ ও গণিতবিদ ট্যরিসেলি (Evangelista Torricelli), ফরাসি পদার্থবিদ ও গণিতবিদ পাসকালের (Blaise Pascal) বিজ্ঞানমনস্কতার কথাও বিশদে উঠে আসে তাঁর আলোচনায়।

তাঁর আলোচনার খেই ধরে কিছু বিষয় ব্যাখ্যা করেন 'ইসনা'-র সভাপতি,

তথা ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিসটিক্যাল ইন্সটিট্যুটের অর্থনীতি বিভাগের অতিথি অধ্যাপক, সাহা ইন্সটিট্যুট অফ নিউক্লিয়ার ফিজিক্সের প্রাক্তন অধিকর্তা অধ্যাপক বিকাশ চক্রবর্তী।

অরুনাভবাবুকে 'ইসনা'-র স্মারক তুলে দেন অধ্যাপক বিকাশ চক্রবর্তী। অনুষ্ঠানের সংযোজনার দায়িত্বে ছিলেন 'ইসনা'-র প্রাক্তনী মৌক্তিক চক্রবর্তী।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / মৌসুমী সেনগুপ্ত




 

 rajesh pande