
দুর্গাপুর, ২২ আগস্ট (হি. স.): তৃণমূল আমলে খেলাধূলা, পড়াশোনাকে পরিযায়ী বানিয়ে দিয়েছে। প্রতিভা থাকলেও অন্য রাজ্যে প্র্যাক্টিস করে। মেধা থাকলে অন্য রাজ্যে পড়তে যায়। এতদিন ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার জন্য গলা ফাটাতো। এবার সময় এসেছে ভারতবর্ষের জন্য গলা ফাটাবে। তাও আবার আমাদের কলকাতায়। শনিবার দুর্গাপুরে ন্যাশনাল স্পোর্টস ডে'র উদযাপনের বাইক র্যালিতে এসে তৃনমূলকে বিঁধলেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ডঃ ইন্দ্রনীল খাঁ।
উল্লেখ্য, আগামী ২৯ আগষ্ট জাতীয় ক্রীড়া দিবস। আর সেই উপলক্ষ্যে সাজো সাজো রব শিল্পশহর দুর্গাপুরে। সাড়ম্বরে এইদিন উদযাপনের উদ্যোগ নিয়েছে ন্যাশনাল স্পোর্টস ডে উদযাপন কমিটি।
শনিবার দুর্গাপুরে সেই উপলক্ষ্যে এক বর্ণাঢ্য বাইক র্যালির আয়োজন করেন উদ্যোক্তারা। এদিন ওই র্যালি তে যোগ দিতে আসেন, রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়, দুর্গাপুর পশ্চিমের বিধায়ক লক্ষ্মণ চন্দ্র ঘড়ুই, দুর্গাপুরের মহকুমা শাসক অঙ্কিতা আগরওয়াল-সহ প্রশাসনের আধিকারিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। এদিন বিকালে সিধু কানু স্টেডিয়ামে শহরের প্রতিভাবান খেলিয়াড়দের নিয়ে প্রদর্শনি ছিল। সেখানে ক্রীড়ামন্ত্রীকে বিশেষ সম্বর্ধনা দেওয়া হয়। এদিন ক্রীড়ামন্ত্রী রাজ্যের প্রাক্তন তৃণমূল সরকারকে বিঁধে বলেন, আগের সরকারের আমলে পড়াশোনা খেলাধুলাকে পরিযায়ী করে দিয়েছে। কলকাতা কেন্দ্রীক খেলাধূলা হত। দুর্নীতি আর স্বজন পোষণে ভরে ছিল। যার ফল কমনওয়েলথে রাজ্যের প্রতিনিদ্ধিত্ব ছিল জিরো।
প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের সামনে এগিয়ে নিয়ে আসার পাশাপাশি পরিকাঠামোর উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। দুর্গাপুরে একাধিক স্টেডিয়াম রয়েছে। সেই স্টেডিয়ামগুলিকে আরও উন্নত ও আধুনিক করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সিধু কানু ইন্ডোর স্টেডিয়ামকে সেন্ট্রাল এসি করা হবে। শুধু কলকাতাকে কেন্দ্র করে ক্রীড়াক্ষেত্রের উন্নয়ন নয়, রাজ্যের প্রত্যন্ত এলাকাতেও খেলাধুলার পরিকাঠামো তৈরি ও উন্নয়নের উপর জোর দেওয়া হবে। সুন্দরবন থেকে শিলিগুড়ি, দুর্গাপুর সর্বত্রই ক্রীড়ার প্রসার ঘটানোর লক্ষ্য রয়েছে। ছেলে মেয়েদের খেলার সুযোগ না করে দিলে মোবাইলে আসক্ত হয়ে পড়বে। তাই খেলাধূলার মান উন্নয়ন করা হবে।
তার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যাতে কলকাতার পাশাপাশি দুর্গাপুরও আগামী দিনে বড় মাপের রাজ্য, জাতীয় এমনকি আন্তর্জাতিক স্তরের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। এদিন ব্রাজিল -ইন্ডিয়া ম্যাচ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এতদিন ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার জন্য গলা ফাটাতো। এবার সময় এসেছে ভারতবর্ষের জন্য গলা ফাটাবে। তাও আবার আমাদের কলকাতায়। ইতিহাসে প্রথমবার ফুটবল পাওয়ার হাউস ভারতবর্ষের বিরুদ্ধে খেলবে। এরজন্য যাবতীয় ব্যাবস্থাপনা করবে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যে ব্রাজিল কনফেডারেশন যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন দেখে গেছেন। এবং তারা খুবই খুশী। তারা তাকিয়ে আছে কবে ইন্ডিয়া ব্রাজিল ম্যাচ হবে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা