
ঢাকা, ২২ আগস্ট (হি.স.) : বাংলাদেশে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ ঘিরে ফের বাড়ছে নিরাপত্তা-উদ্বেগ। ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর গত দু’বছরে উগ্রবাদ মোকাবিলায় অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ দেশে উগ্রবাদী কার্যকলাপের অস্তিত্ব অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে, সাম্প্রতিক মাসগুলিতে দেশে জঙ্গি তৎপরতা বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে পুলিশ।
গত সপ্তাহে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদ (ইউএনএসসি) প্রকাশিত একটি রিপোর্টে সতর্ক করা হয়েছে, আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট (একিউআইএস) বাংলাদেশকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্ক ও সেল তৈরির চেষ্টা করছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের অ্যানালিটিক্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যাংশনস মনিটরিং টিমের ৩৮তম রিপোর্টে এই তথ্য উঠে এসেছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ পুলিশ সদর দফতরে সম্ভাব্য সন্ত্রাসবাদী হামলার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করেছিল। পাশাপাশি, গত ১২ আগস্ট ঢাকার সাভার এলাকা থেকে প্রেসার কুকারে তৈরি একটি দেশীয় বোমা উদ্ধার করা হয়। গত বছরও কয়েক জন বাংলাদেশি নাগরিকের সঙ্গে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর কথিত যোগসূত্রের খবর প্রকাশ্যে এসেছিল।
রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর একিউআইএস বাংলাদেশে ধর্মীয় প্রচার, সংগঠনের বিস্তার এবং সরকারের উপর বাইরে থেকে চাপ তৈরির কৌশলে জোর দিয়েছে। সরাসরি নির্বাচনী বা সরকারি ব্যবস্থায় অংশ নেওয়ার পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদে তৃণমূল স্তরে সংগঠনের প্রভাব বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য