
নয়াদিল্লি ও রংপুর, ২৩ আগস্ট (হি স)। রংপুরে একই হিন্দু পরিবারের চারজনকে হত্যা করা হয়েছে বলে রবিবার সামাজিক মাধ্যমে অভিযোগ করেছেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন।
তাঁর দাবি, অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, তাঁদের মেয়ে আগামী এবং ছোট ছেলে প্রিয়ম খুন হয়েছেন। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ডাকাতির সম্ভাবনার কথা বলছে।
তসলিমার অভিযোগ, 'ডাকাত ডাকাতি করতে আসে সম্পদ লুট করতে। অস্ত্রের মুখে সাধারণত বাড়ির মানুষ প্রাণ বাঁচাতেই টাকা-পয়সা, গয়নাগাটি যা আছে দিয়ে দেয়। একজন অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষকের বাড়িটিকেই বা এমন বড় লুটের লক্ষ্য মনে করার কারণ কী? আজকাল অনেকেই বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা বা মূল্যবান গয়নাগাটি ঘরে রাখে না; রাখে ব্যাংকে।
তারপরও ধরে নিলাম ডাকাত এসেছিল। কিন্তু ডাকাতরা বাড়ির চারজন মানুষকেই হত্যা করবে কেন? তাঁরা কি ডাকাতিতে বাধা দিয়েছিলেন? বারো বছরের প্রিয়ম এমন কী বাধা দিয়েছিল যে তাকেও হত্যা করতে হলো? শুধু সম্পদ লুট করলেই তো ডাকাতদের উদ্দেশ্য পূরণ হওয়ার কথা। তাহলে চারটি প্রাণ নেওয়ার প্রয়োজন হলো কেন?
ঘর তছনছ হওয়াই কি ডাকাতির অকাট্য প্রমাণ? নাকি হত্যার প্রকৃত উদ্দেশ্য আড়াল করার জন্য ঘর তছনছ করে ঘটনাটিকে ডাকাতি বলে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল?
আমার সন্দেহ হচ্ছে, এটি নিছক ডাকাতি নয়। পরিবারটি হিন্দু। বাংলাদেশে হিন্দুদের প্রতি দীর্ঘদিনের যে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ রয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটে জিহাদিদের হিন্দুবিদ্বেষ এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে ছিল কি না, সেটি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন।
তদন্তের আগেই আমি কাউকে অপরাধী ঘোষণা করছি না। কিন্তু “ডাকাতি” বলে একটি সহজ ব্যাখ্যা দিয়ে যেন চারটি হত্যার আসল কারণ চাপা দেওয়া না হয়।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / মৌসুমী সেনগুপ্ত