
হাফলং (অসম), ২২ আগস্ট (হি. স.): লামডিং–বদরপুর পাহাড় লাইনে রেলপথের জটিলতা এখনও কাটেনি। নিউ হারাঙ্গাজাও স্টেশনের কাছে বসে যাওয়া রেলপথের ১ ও ২ নম্বর লাইনে পুনরুদ্ধারের কাজ চললেও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ভূগর্ভ থেকে জল বেরোনোকে ঘিরে। ফলে আগামী এক মাসের মধ্যে ওই এলাকায় রেলপথের মেরামতির কাজ সম্পূর্ণ করে স্বাভাবিক ট্রেন পরিষেবা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, নিউ হারাঙ্গাজাও স্টেশনের কাছে ১ ও ২ নম্বর লাইনের নীচের মাটি ও পাথর ধসে যাওয়ার পর সেখানে মাটি ভরাট করে পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে। কিন্তু ২ নম্বর লাইনের নীচ থেকে এখনও জল বেরিয়ে আসছে। রেল কর্তৃপক্ষ পাইলিং করে পাইপের মাধ্যমে সেই জল বের করে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে ভূগর্ভ থেকে এই জল কোথা থেকে আসছে, তার সঠিক উৎস এখনও স্পষ্ট না হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে নিউ হারাঙ্গাজাও সংলগ্ন এলাকায় ১ ও ২ নম্বর লাইন এখনও স্বাভাবিক ভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। আপাতত ৩ নম্বর লাইনের মাধ্যমে ট্রেন চলাচল চালু রাখা হয়েছে। যাত্রী নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ওই এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে রেল সূত্রে জানানো হয়েছে। মেরামতির কাজ চলার কারণে ট্রেন পরিষেবায় ফের পরিবর্তন ঘোষণা করেছে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল। আগামী ২৩ ও ২৪ আগস্ট ১৫৬১৫ গুয়াহাটি–শিলচর এক্সপ্রেস এবং ১৫৬১৬ শিলচর–গুয়াহাটি এক্সপ্রেস বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়াও কয়েকটি ট্রেনের সময়সূচিতে পরিবর্তন করা হয়েছে। ১৫৬৫০ নারেঙ্গি–আগরতলা এক্সপ্রেস ২৩ আগস্ট নারেঙ্গি থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে ছাড়বে। একই দিনে ০১৬৬৬ আগরতলা–রানি কমলাপতি এক্সপ্রেস আগরতলা থেকে সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে ছাড়বে। অন্য দিকে, ১২৫০৩ এসএমভিটি বেঙ্গালুরু–আগরতলা এক্সপ্রেস, যা ২১ আগস্ট যাত্রা শুরু করেছে, নিউ হারাঙ্গাজাওয়ের পরিস্থিতি বিবেচনা করে পথে উপযুক্ত সময়ের জন্য নিয়ন্ত্রণ করা হবে বলে রেল সূত্রে জানানো হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, নিউ হারাঙ্গাজাওয়ের কাছে পুনরুদ্ধার কাজের অগ্রগতি এবং পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী আগামী দিনে ট্রেন পরিষেবায় আরও পরিবর্তন করা হতে পারে। নিউহারাঙ্গাজাওয়ের ভূগর্ভস্থ পরিস্থিতি এবং বারবার মেরামতির কাজে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় লামডিং–বদরপুর পাহাড় লাইনে কবে পুরোপুরি স্বাভাবিক পরিষেবা ফিরবে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে যাত্রী থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সব মহল।
হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব