১০৮ বছরের আস্থা, ভক্তি ও ঐতিহ্যের জীবন্ত সাক্ষী—হাফলং কালীবাড়ি মন্দির
হাফলং (অসম), ২৩ আগষ্ট (হি. স.): ডিমা হাসাও জেলার সদর শহর হাফলংয়ের অন্যতম প্রাচীন ও পবিত্র ধর্মীয় তীর্থস্থান হাফলং কালীবাড়ি মন্দির এ বছর ১০৮ বছরের গৌরবময় যাত্রা সম্পূর্ণ করেছে। এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এই মন্দির আধ্যাত্মিক সাধনা, ধর্মীয় বিশ্ব
Kali Mondir


Haflong Kali Mondir 1


হাফলং (অসম), ২৩ আগষ্ট (হি. স.): ডিমা হাসাও জেলার সদর শহর হাফলংয়ের অন্যতম প্রাচীন ও পবিত্র ধর্মীয় তীর্থস্থান হাফলং কালীবাড়ি মন্দির এ বছর ১০৮ বছরের গৌরবময় যাত্রা সম্পূর্ণ করেছে। এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এই মন্দির আধ্যাত্মিক সাধনা, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে স্থানীয় মানুষের হৃদয়ে বিশেষ স্থান অধিকার করে রয়েছে। ১৯১৭ সালে মা কালীর একনিষ্ঠ উপাসক ও পূজনীয় সাধু শ্রীশ্রী সম্ভারগিরি বাবা এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। জনশ্রুতি অনুসারে, গভীর তপস্যা ও আধ্যাত্মিক সাধনার মাধ্যমে তিনি মা কালীর আশীর্বাদ লাভ করেন। সেই আধ্যাত্মিক অনুপ্রেরণায় হাফলং পাহাড়ের বুকে তিনি এই পবিত্র উপাসনাস্থলের ভিত্তি স্থাপন করেন।

প্রাচীন বাস্তু-শাস্ত্রের নীতি অনুসারে নির্মিত এই মন্দিরের প্রতিটি অংশে ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিকতার সুন্দর সমন্বয় পরিলক্ষিত হয়। মন্দির নির্মাণ এবং পরবর্তী উন্নয়নের ক্ষেত্রে গোর্খা, ডিমাসা, বাঙালি, বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ভক্তদের সক্রিয় অংশগ্রহণ হাফলং কালীবাড়িকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল প্রতীকে পরিণত করেছে। মন্দির চত্বরে প্রতিষ্ঠিত মা ভদ্রকালী ও কল্পিলেশ্বর মহাদেবের বিগ্রহে প্রতিদিন অসংখ্য ভক্ত পূজা-অর্চনা নিবেদন করেন। বিশেষ করে দূর্গাপূজা, কালীপূজা, দেবীপূজা, শিবরাত্রি এবং অন্যান্য ধর্মীয় উৎসবের সময় মন্দির প্রাঙ্গণে হাজার হাজার ভক্তের সমাগম ঘটে। এই উৎসবগুলি শুধু ধর্মীয় আবেগকেই জাগ্রত করে না, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বার্তাও ছড়িয়ে দেয়। হাফলংয়ের মনোরম পাহাড়ি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক মন্দির আধ্যাত্মিক শান্তি অন্বেষণকারী মানুষের কাছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি অসমের বিভিন্ন প্রান্ত ত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্যান্য রাজ্য এবং দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বহু ভক্ত ও পর্যটক নিয়মিত এই পবিত্র স্থান দর্শনে আসেন। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মন্দিরের পরিকাঠামো ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার কিছু উন্নয়ন সাধন করা হলেও এর মূল ঐতিহ্য, ধর্মীয় মর্যাদা এবং আধ্যাত্মিক পরম্পরা আজও অক্ষুণ্ণ রয়েছে। ১০৮ বছরের এই দীর্ঘ যাত্রায় হাফলং কালীবাড়ি শুধু একটি উপাসনাস্থল হিসেবেই নয়, ডিমা হাসাওয়ের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। আজও এই পবিত্র তীর্থস্থানে উপস্থিত হলে ভক্তরা এক অনন্য মানসিক প্রশান্তি অনুভব করেন। ঈশ্বরের আশীর্বাদ, আধ্যাত্মিক শক্তি এবং ডিমা হাসাওয়ের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সান্নিধ্য লাভের আশায় আসা প্রত্যেক দর্শনার্থীকে হাফলং কালীবাড়ি একই আন্তরিকতার সঙ্গে স্বাগত জানিয়ে আসছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব




 

 rajesh pande