ঝুলনেও বিক্রি নেই কৃষ্ণনগরের ঘূর্ণির মাটির পুতুলে, চিন্তায় মৃৎশিল্পীরা
কৃষ্ণনগর, ২৪ আগস্ট (হি.স.): ঐতিহ্যবাহী ঝুলন উৎসবের মুখেও মন্দা কাটছে না নদিয়ার কৃষ্ণনগরের ঘূর্ণির বিশ্বখ্যাত মাটির পুতুল শিল্পে। জিআই স্বীকৃতি মিললেও ক্ষুদ্র মৃৎশিল্পীদের আর্থিক পরিস্থিতির বিশেষ পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ। উৎসবের মরশুমেও পুতুল বিক্রি
চিন্তায় মৃৎ শিল্পীরা


কৃষ্ণনগর, ২৪ আগস্ট (হি.স.): ঐতিহ্যবাহী ঝুলন উৎসবের মুখেও মন্দা কাটছে না নদিয়ার কৃষ্ণনগরের ঘূর্ণির বিশ্বখ্যাত মাটির পুতুল শিল্পে। জিআই স্বীকৃতি মিললেও ক্ষুদ্র মৃৎশিল্পীদের আর্থিক পরিস্থিতির বিশেষ পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ। উৎসবের মরশুমেও পুতুল বিক্রি না হওয়ায় সংসার চালাতে সমস্যায় পড়ছেন শিল্পীরা। ইতিমধ্যেই বহু শিল্পী ঐতিহ্যবাহী পেশা ছেড়ে বিকল্প জীবিকার পথে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

ঘূর্ণি পুতুলপট্টির প্রায় ৩০ বছরের অভিজ্ঞ শিল্পী আনন্দ দাস এবং বংশানুক্রমিক মৃৎশিল্পী বিমল পাল জানান, একসময় ঝুলন উৎসবকে কেন্দ্র করে মাটির পুতুলের ব্যাপক চাহিদা ছিল। গোপাল, দেব-দেবীর মূর্তি, বাউল-বাউলানি, কীর্তনের সেট, রাজা-রানি, গ্রাম্য পরিবারের মডেল-সহ নানা ধরনের পুতুল কিনতে দূরদূরান্ত থেকে ক্রেতারা আসতেন।

শিল্পীদের দাবি, গত এক দশকে পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে। ডিজিটাল বিনোদনের পাশাপাশি প্লাস্টিক, ফাইবার, মেটাল ও স্টোন ডাস্টের তৈরি সামগ্রীর দাপটে মাটির পুতুলের বাজার ক্রমশ সংকুচিত হয়েছে। মাত্র ২০ টাকা থেকে শুরু হওয়া পুতুলও বিক্রি করতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে তাঁদের দাবি।

এই পরিস্থিতিতে নতুন প্রজন্মও মৃৎশিল্প থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। কেউ টোটো চালাচ্ছেন, কেউ সবজি বিক্রি করছেন। শিল্পীদের অভিযোগ, জিআই স্বীকৃতি পেলেও তার সুফল তাঁদের কাছে পৌঁছচ্ছে না। শিল্পটিকে বাঁচাতে সরকারি সহায়তা, বিপণনের ব্যবস্থা এবং ক্ষুদ্র শিল্পীদের জন্য বিশেষ উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

হিন্দুস্থান সমাচার / এ. গঙ্গোপাধ্যায়




 

 rajesh pande