নেপালের বন্যায় ভোপালের ২৯ জন নিখোঁজ, শেষ ফোনে আর্জি—‘আমরা হয়তো বাঁচব না, সন্তানদের দেখো’
ভোপাল, ২৮ আগস্ট (হি.স.): নেপালে ভয়াবহ বন্যার জেরে মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপালের একটি পরিবারের সঙ্গে যুক্ত ২৯ জনের নিখোঁজ হওয়ার খবর সামনে এসেছে। তাঁরা সকলেই নেপালের রাসুয়া জেলার গোসাইকুণ্ড তীর্থে গিয়েছিলেন। সেখানেই আকস্মিক বন্যার কবলে পড়েন তাঁরা। প
নেপালের বন্যায় ভোপালের ২৯ জন নিখোঁজ, শেষ ফোনে আর্জি—‘আমরা হয়তো বাঁচব না, সন্তানদের দেখো’


ভোপাল, ২৮ আগস্ট (হি.স.): নেপালে ভয়াবহ বন্যার জেরে মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপালের একটি পরিবারের সঙ্গে যুক্ত ২৯ জনের নিখোঁজ হওয়ার খবর সামনে এসেছে। তাঁরা সকলেই নেপালের রাসুয়া জেলার গোসাইকুণ্ড তীর্থে গিয়েছিলেন। সেখানেই আকস্মিক বন্যার কবলে পড়েন তাঁরা।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, নিখোঁজ ২৯ জন পরস্পরের আত্মীয়। তাঁদের মধ্যে জ্যাঠা-জ্যাঠাইমা, দেওর-দেওরানি, দিদি-জামাইবাবু-সহ পরিবারের একাধিক সদস্য রয়েছেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শেষবার ফোনে কথা বলার সময় তাঁরা একটি বাড়ির ছাদে আশ্রয় নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। সেই সময় তাঁদের বলতে শোনা যায়, ‘আমরা হয়তো বাঁচব না, তোমরা আমাদের সন্তানদের দেখো।’

ভোপালে থাকা দেবকী অধিকারী জানান, তাঁর পরিবারের চার সদস্যও ওই দলে ছিলেন। পূর্ণিমা উপলক্ষে তাঁরা গোসাইকুণ্ড তীর্থে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। এটি কোনও একটি পরিবারের যাত্রা ছিল না। আশপাশে বসবাসকারী একাধিক আত্মীয়-পরিজন মিলে একটি দল করে নেপালে গিয়েছিলেন।

দেবকীর দাবি, যাত্রার সময় তাঁরা সামনে এমন বিপদ আসতে পারে বলে জানতেন না। মাঝপথে খাবারের জন্য থামার পর জানতে পারেন, সামনে বন্যা এসেছে এবং পরিস্থিতি বিপজ্জনক। এরপর খাবার ও মালপত্র ফেলে জীবন বাঁচাতে তাঁরা পাহাড়ের দিকে ছুটে যান। পরে একটি বাড়ির ছাদে আশ্রয় নেন।

সেখান থেকেই তাঁরা পরিজনদের ফোন করে পরিস্থিতির কথা জানান। পরিবারের সদস্যরা জানান, তাঁদের বাসটি বন্যার জলে ভেসে গিয়েছে। তাঁরা একটি বাড়ির ছাদে আশ্রয় নিয়েছেন। তবে পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে নিজেদের প্রাণ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তাঁরা।

দেবকী জানান, ২৬ আগস্ট সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শেষবার কথা হয়েছিল। ফোনে তাঁরা জানিয়েছিলেন, ‘‘অর্ধেক বাড়ি ডুবে গিয়েছে। এখন আমরা বাঁচব না। আমাদের সন্তানদের দেখাশোনা করো।’’ তাঁর দাবি, কথোপকথনের সময় ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়নি। কিন্তু কিছুক্ষণ পর ওপার থেকে আর কোনও শব্দ পাওয়া যায়নি। তারপর থেকেই ২৯ জনের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

পরিবারের সদস্যরা বারবার ফোন করার চেষ্টা করলেও কোনও সাড়া মিলছে না। নেপালের স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকেও এখনও কোনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। নিখোঁজদের কারও সন্ধান মেলেনি। তাঁদের ব্যবহৃত বাসটিরও কোনও খোঁজ নেই। এখনও পর্যন্ত কোনও মৃতদেহ উদ্ধারের খবরও পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজদের কাছে পৌঁছনোর ক্ষেত্রেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। দেবকী জানান, ত্রিশূলী নদীর উপর থাকা একটি সেতু ভেঙে যাওয়ায় স্বাভাবিক যাতায়াতের পথ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। যে জায়গায় সাধারণত প্রায় আধ ঘণ্টায় পৌঁছনো যেত, এখন কাঁচা রাস্তা, গ্রাম ও পাহাড়ি পথ ঘুরে সেখানে পৌঁছতে প্রায় ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় লাগছে। মাঝখানে বড় নদী এবং সেতু ভেঙে যাওয়ায় পরিজনরাও চাইলেও সহজে ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারছেন না।

এদিকে ২৯ জনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তাঁদের সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কেউ শ্বশুরবাড়িতে, কেউ আবার কর্মসূত্রে অন্যত্র রয়েছেন। বাবা-মা ও পরিজনদের নিরাপত্তা নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন। নিখোঁজদের দ্রুত সন্ধান ও নিরাপদ উদ্ধারের জন্য সরকারের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন দেবকী অধিকারী।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande