
শিলিগুড়ি, ২৮ আগস্ট (হি. স.): ভারত-নেপাল সীমান্তের পানিট্যাঙ্কিতে সশস্ত্র সীমা বলের (এসএসবি) তৎপরতায় ভেস্তে গেল এক বড়সড় মানব পাচারের ছক। নেপালে পাচারের আগেই চার নাবালিকা সহ মোট ছয় মহিলাকে উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত অভিযোগে দুই মানব পাচারকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের নাম নির্মল দেববর্মা ও চিন্ময় বসাক। ধৃত নির্মল দেববর্মা ত্রিপুরার এবং চিন্ময় বসাক জলপাইগুড়ির বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। শুক্রবার দু’জনকেই শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে ভারত-নেপাল সীমান্তের পানিট্যাঙ্কির পুরোনো মেচি সেতু দিয়ে নেপালে প্রবেশের সময় ৪১ নম্বর ব্যাটালিয়নের এসএসবি জওয়ানরা ছয় মহিলা ও দুই যুবকের একটি দলকে সন্দেহজনক অবস্থায় দেখতে পেয়ে আটক করেন। তাঁদের নথিপত্র পরীক্ষা করতেই একাধিক অসংগতি ধরা পড়ে। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদ চালাতেই সামনে আসে মানব পাচারের এই চাঞ্চল্যকর তথ্য।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ছয় মহিলার বাড়িই ত্রিপুরায়, যাঁদের মধ্যে চারজন নাবালিকা। অভিযোগ, ড্যান্স বারে আকর্ষণীয় বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাঁদের নেপালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। পরবর্তীতে 'কোশি লোক মঞ্চ' নামক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও অন্যান্য এজেন্সির প্রতিনিধিরা উদ্ধার হওয়া মহিলাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রতিনিধি রোশনি রায়ের মতে, চার নাবালিকার মধ্যে দুজনের পরিবারের সদস্যরা আগেই ত্রিপুরায় তাঁদের নিখোঁজ হওয়ার ডায়েরি করেছিলেন। অন্যদিকে, বাকি মহিলাদের পরিবারের কাছেও তাঁদের নেপাল যাওয়ার বিষয়ে কোনো তথ্য ছিল না।
ওই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে এসএসবি উদ্ধার হওয়া মহিলা ও দুই অভিযুক্তকে খড়িবাড়ি থানার পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
পুলিশ উদ্ধার হওয়া মহিলাদের সুনিশ্চিতভাবে তাঁদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। পাশাপাশি ধৃত দুজনকে হেফাজতে নিয়ে এই আন্তঃরাজ্য ও আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রের শিকড় অবধি পৌঁছাতে পুলিশ তদন্ত জোরদার করেছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি