
বিশকেক, ১ সেপ্টেম্বর (হি.স.): প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মঙ্গলবার কিরগিজস্তানের বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংগঠন (এসসিও)-এর ২৬ তম শিখর সম্মেলনে যোগ দেন। প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও এই বৈঠকে যোগ দেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং অন্যান্য বিশ্বনেতারা। এসসিও সম্মেলনে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ''আমাদের অবশ্যই সন্ত্রাসবাদের পুরো কাঠামো—এর অর্থায়ন, সদস্য সংগ্রহ ও নিরাপদ আশ্রয়স্থল—ভেঙে ফেলতে হবে। আমাদের এক স্বরে বলতে হবে, সন্ত্রাসবাদের ক্ষেত্রে কোনো দ্বিমুখী নীতির স্থান হতে পারে না। যুদ্ধক্ষেত্রে এর কোনও সমাধান নেই; সমস্ত যুদ্ধ ও সংঘাতের সমাধান অবশ্যই আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমে করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছেন, এখন সময় এসেছে এই তিনটি স্তম্ভকে কেবল পরিকল্পনার গণ্ডি থেকে বের করে এনে বাস্তব ফলাফলে রূপান্তর করার। এর জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো শান্তি ও নিরাপত্তা। সন্ত্রাসবাদ সমগ্র মানবজাতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যেসব দেশ সন্ত্রাসবাদকে রাষ্ট্রীয় নীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে কিংবা সন্ত্রাসীদের আশ্রয় ও সহায়তা দেয়, তাদের কাছে একটি কঠোর বার্তা পৌঁছে দিতে হবে: সন্ত্রাসবাদ কারও জন্যই কোনও কৌশলগত সম্পদ হতে পারে না। একটি শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ ইউরেশিয়া গড়ে তোলার যে যৌথ আকাঙ্ক্ষা আমাদের রয়েছে, তার সঙ্গে আফগানিস্তানের শান্তি ও স্থিতিশীলতাও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আফগান জনগণের উন্নয়ন ও মানবিক প্রয়োজনে ভারত বরাবরই অবদান রেখে চলেছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আজকের এই পারস্পরিক সংযুক্ত বিশ্বে নিরাপত্তার পরিধি অনেক বিস্তৃত হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার সংকট প্রমাণ করেছে, কোনও একটি অঞ্চলের সংঘাত কেবল সেই অঞ্চলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং তা বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা, সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকেও প্রভাবিত করে। আর এসবের নেতিবাচক প্রভাবের বড় অংশটিই 'গ্লোবাল সাউথ' বা উন্নয়নশীল দেশগুলোকে বহন করতে হয়। এ কারণেই ভারত সবসময় বলে আসছে, সব ধরনের উত্তেজনা ও সংঘাতের সমাধান যুদ্ধক্ষেত্রে নয়, বরং আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমেই সম্ভব। মাদক পাচার কেবল একটি অপরাধই নয়, এটি আমাদের যুবসমাজ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যও এক বড় ঝুঁকি। নিরাপত্তা ঝুঁকি, সংঘবদ্ধ অপরাধ, তথ্য নিরাপত্তা এবং মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এসসিও-র কাঠামোর আওতায় যেসব কেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে, তা একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। আমাদের উচিত সেগুলোকে কার্যকর সমন্বয় ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণের শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তোলা।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সংবাদ