
হাফলং (অসম), ১৩ সেপ্টেম্বর (হি স): গ্রামের মানুষের কাছে পৌঁছে তাঁদের উন্নয়নের কথা বলা বা নতুন সুযোগের সন্ধান দেওয়াই শেষ কথা নয়। প্রত্যন্ত জনপদের মানুষের জীবন, অভিজ্ঞতা, সংস্কৃতি এবং প্রকৃতিনির্ভর জ্ঞান থেকেও অনেক কিছু শেখার রয়েছে। সেই ভাবনাকেই সামনে রেখে ‘ডিমাসা দারা দিসা হামদাওনে রিহফাইন’-এর বার্তা নিয়ে ডিমা হাসাও স্বশাসিত পরিষদ এক কাৰ্যসূচি গ্ৰহণ করেছে। গ্রামীণ সমাজের অমূল্য ঐতিহ্যকে জানুন, সম্মান করুন এবং সংরক্ষণ করুন।
গ্রাম মানেই শুধু অনুন্নত পরিকাঠামো বা সুযোগ-সুবিধার অভাব নয়। বহু প্রত্যন্ত গ্রামে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে গড়ে উঠেছে প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থানের এক নিজস্ব জীবনধারা। স্থানীয় পরিবেশ, বনজ সম্পদ, জল, মাটি ও কৃষিকে ঘিরে গড়ে ওঠা সেই অভিজ্ঞতা আজকের দিনে টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
গ্রামীণ সমাজের এই সম্পদকে আধুনিকতার চাপে মুছে ফেলার পরিবর্তে তাকে উদযাপন ও সংরক্ষণ করার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে মিশে থাকা বহু প্রথা ও জ্ঞান পরিবেশবান্ধব এবং সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। প্রকৃতিকে কী ভাবে রক্ষা করে তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে জীবনযাপন করা যায়, সেই শিক্ষা প্রত্যন্ত গ্রামগুলি এখনও দিয়ে চলেছে।
এই প্রেক্ষাপটে শহর ও গ্রামের মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে। শহরের সুযোগ, প্রযুক্তি ও দায়িত্বের সঙ্গে গ্রামের ঐতিহ্য, অভিজ্ঞতা ও প্রাকৃতিক সম্পদকে যুক্ত করা গেলে উন্নয়নের পথ আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে পারে। উন্নয়ন যেন কখনও স্থানীয় সংস্কৃতি ও পরিচয়কে মুছে না দেয়, বরং তার ভিতের উপর দাঁড়িয়েই এগিয়ে যায়—এটাই মূল ভাবনা।
গ্রামীণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের ফলে শুধু তাঁদের সমস্যার কথা জানা যায় না, তাঁদের জীবনদর্শনও বোঝা যায়। প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের সঙ্গে সময় কাটানো, তাঁদের কথা শোনা এবং তাঁদের অভিজ্ঞতাকে সম্মান করা শহুরে সমাজের কাছেও নতুন দৃষ্টিভঙ্গির দরজা খুলে দিতে পারে।
সব মিলিয়ে, প্রত্যন্ত গ্রামে যাত্রা শুধু দায়িত্ব পালনের বিষয় নয়—এ এক শিক্ষারও যাত্রা। শহরের ব্যস্ততা থেকে বহু দূরে, প্রকৃতির কাছাকাছি এই জনপদগুলির মধ্যেই জীবনের সরলতা, সৌন্দর্য এবং গভীর জ্ঞানের অনেকখানি লুকিয়ে রয়েছে। সেই জ্ঞানকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে চলাই হতে পারে প্রকৃত অর্থে টেকসই ও মানবিক উন্নয়নের পথ।
হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব