
আরামবাগ , ১৩ সেপ্টেম্বর (হি.স.): গোঘাটে আনসারিয়া জুনিয়র হাই মাদ্রাসা ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য। গোঘাট ২ নম্বর ব্লকের মান্দারণ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার কয়রাখালি আনসারিয়া জুনিয়র হাই মাদ্রাসার আর কোনও অস্তিত্ব নেই। মাদ্রাসার জায়গায় এখন ধান চাষ হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বিডিও অফিসের পক্ষ থেকে ওই এলাকায় একটি নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ কাঠা জমির উপর গড়ে উঠেছিল ওই মাদ্রাসা। কিন্তু বর্তমানে রবিবার সেখানে গিয়ে দেখা যায়, মাদ্রাসার ভবনের কোনও অস্তিত্ব নেই। ধানজমির মধ্যে পড়ে রয়েছে কেবল কয়েকটি পিলার। বাকি অংশ সম্পূর্ণভাবে চাষের জমিতে পরিণত হয়েছে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা তথা প্রধান শিক্ষক শেখ ঈদুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলা হয়। তাঁর দাবি, সরকার পরিবর্তনের পর মাদ্রাসাটি কার্যত ভেঙে পড়েছিল। আর্থিক সমস্যার কারণে মাদ্রাসার খরচ চালানো এবং শিক্ষকদের বেতন দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। সেই কারণেই তিনি মাদ্রাসাটি তুলে দিয়েছেন বলে জানান।
শেখ ঈদুল ইসলামের বক্তব্য অনুযায়ী, মাদ্রাসায় প্রায় ১০ জন শিক্ষক ছিলেন। তাঁদের নিয়মিত বেতন দিতে না পারায় পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত মাদ্রাসার প্রায় ৫৫ জন ছাত্রছাত্রী অন্য বিদ্যালয়ে চলে যায়।
অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, গত আষাঢ় মাসেই মাদ্রাসাটি ভেঙে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে ওই জমিতে ধান চাষ করা হচ্ছে। জমিটির মালিকানা মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা শেখ ঈদুল ইসলামের বলেও স্থানীয়দের দাবি। তবে মাদ্রাসা কেন এবং কীভাবে বন্ধ হল, তা নিয়ে এলাকায় তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
স্থানীয়দের কেউ কেউ আবার দাবি করছেন, নতুন সরকার গঠনের পরই মাদ্রাসাটি তুলে দেওয়া হয়েছে। যদিও মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সেই দাবি মানতে নারাজ। তাঁর বক্তব্য, আর্থিকভাবে মাদ্রাসা চালানো সম্ভব না হওয়ায় তিনি নিজেই প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন।
এদিকে মাদ্রাসার জায়গায় গিয়ে ভবনের কোনও চিহ্ন না থাকায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রশাসনের নোটিশ দেওয়ার পর মাদ্রাসার জমি ও প্রতিষ্ঠান বন্ধের বিষয়টি নিয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে এলাকাবাসী।
হিন্দুস্থান সমাচার / SANTOSH SANTRA