সরকার পরিবর্তনের পর, রাজ্যে গোবর্ধন প্রকল্প চালুর উদ্যোগ
দুর্গাপুর, ১৫ সেপ্টেম্বর (হি. স.): ''বর্জ্য থেকে সম্পদ'। স্বচ্ছ ভারতের পর এবার জ্বালানি গ্যাস ও জৈব সার উৎপাদনে পরিবেশবান্ধব গোবরের ব্যাবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্র সরকার। চার বছর আগে গোবর্ধন প্রকল্প চালু হলেও, পশ্চিমবঙ্গের পূর্বতন সরকারের আ
সরকার পরিবর্তনের পর, রাজ্যে গোবর্ধন প্রকল্প চালুর উদ্যোগ


দুর্গাপুর, ১৫ সেপ্টেম্বর (হি. স.): 'বর্জ্য থেকে সম্পদ'। স্বচ্ছ ভারতের পর এবার জ্বালানি গ্যাস ও জৈব সার উৎপাদনে পরিবেশবান্ধব গোবরের ব্যাবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্র সরকার। চার বছর আগে গোবর্ধন প্রকল্প চালু হলেও, পশ্চিমবঙ্গের পূর্বতন সরকারের আমলে কার্যকারী হয়নি। সরকার বদল হতেই সেই গোবর্ধন প্রকল্প চালুর উদ্যোগ নিল নতুন রাজ্য সরকার।

সম্প্রতি দুর্গাপুরে সিএসআইআর- সিএমইআরআই ‘বায়োগ্যাস-উৎপাদন, ব্যবহার এবং উদীয়মান সুযোগ’ শীর্ষক একটি দিনব্যাপী কর্মশালার করা হয়। ওই কর্মশালায় পঞ্চায়েত দফতরের আধিকারিকদের পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের ১৪টি জেলা পরিষদের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা অংশ নেন। কর্মশালায় নেতৃত্ব দেন সিএমইআরআই-এর অধিকর্তা নরেশচন্দ্র মুর্মু এবং পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদের ডেপুটি সেক্রেটারি আবিদা সুলতানা। ইতিমধ্যে রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রাম উন্নয়ন দফতরের সঙ্গে সিএমইআরআই-এর নতুন করে গাঁটছড়া বেঁধেছে। কেন্দ্রের 'গোবর্ধন' প্রকল্পকে গ্রামাঞ্চলে আরও কার্যকর করার বিষয়ে আলোচনা হয়ওই কর্মশালায়। গবাদি পশুর গোবরকে প্রধান উপাদান হিসেবে ব্যবহার করে বায়োগ্যাস তৈরি করে সিএমআরআই-এর প্রযুক্তি। ইতিমধ্যেই সিএমআরআইতে বসানো হয়েছে অত্যাধুনিক পুরসভার কঠিন বর্জ্য অপসারণের সমন্বিত ব্যবস্থা। সিএমআরআই-এর নিজস্ব কর্মী আবাসনের ২৫০ ঘরে জ্বালানি সরবরাহের ক্ষমতা সম্পন্ন এই ত্রিমুখী ব্যবস্থাটিই রাজ্যের প্রথম 'জিরো ওয়েস্ট' কলোনি তৈরির নজির গড়েছে। এই ব্যবস্থায় প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১০০ কেজি বর্জ্য যান্ত্রিক পদ্ধতিতে পৃথক করা যায়। সেখান থেকে প্রতিদিন প্রায় ২০ ঘনমিটার বায়োগ্যাস উৎপন্ন হয়, যা রান্না ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করা সম্ভব। পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবহার করে ব্রিকেটও তৈরি করা হচ্ছে। সিএমআরআই-এর আধিকারিকদের দাবি, ইতিমধ্যেই রাজ্যের ২১টি জেলায় বায়োগ্যাস ইউনিট বসানো হয়েছে। হোটেল, বাজার, আবাসন এবং হাউসিং সোসাইটির মতো জায়গাতেও এই প্রযুক্তি কার্যকর ভাবে ব্যবহার করা সম্ভব। জানা গিয়েছে, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগের জন্য স্বল্প খরচে এই প্রযুক্তি সরবরাহ করে থাকে সিএমইআরআই। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নবায়নযোগ্য শক্তি মন্ত্রকের অর্থানুকূল্যে আরও একটি প্রকল্পের কাজ চলছে, যার লক্ষ্য বায়োগ্যাসে মিথেনের উৎপাদন বাড়ানো। ইতিমধ্যেই বায়োগ্যাস উৎপাদনের জন্য অ্যানারোবিক ডাইজেস্টার প্রযুক্তিও তৈরি করেছে সিএমইআরআই।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে দেশের মসনদে বসার পরই প্রধানমন্ত্রী মোদী সূচনা করেন ‘স্বচ্ছ ভারত অভিযান'-এর। ২০২২ সালে সূচনা হয় দেশের প্রথম ‘গোবর্ধন’ প্রকল্প। ২০২৩ সালে বাজেটে ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হয়। গোবর্ধন প্রকল্প দিল্লি থেকে ভার্চুয়ালি সেই প্রকল্পের সূচনা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী । উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, 'আগামী দু’বছরে দেশের ৭৫টি বড় পুরসভায় এই ধরনের গোবর্ধন বায়ো-সিএনজি প্ল্যান্ট নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ হবে। এই অভিযান ভারতের শহরগুলিকে পরিষ্কার, দূষণমুক্ত করবে। ক্লিন এনার্জির ব্যবহার বাড়বে।' কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যে সারা দেশে প্রায় ৫৮২টি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন করেছে এবং ১৭৬টি নির্মীয়মাণ অবস্থায় রয়েছে। গবাদি পশু এবং জৈব বর্জ্যে একত্রিত করার কর্মসূচী গোবর্ধন প্রকল্প। এটি একটি কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা, যেখানে গবাদি পশুদের গোবর সার বায়োগ্যাসে রক্ষণাবেক্ষণ ও রূপান্তর করা হয়। এটি বাস্তবায়নের জন্য এই প্রকল্পের আওতায় দেশের প্রতিটি জেলার একটি করে গ্রাম নির্বাচিত করার পরিকল্পনা ছিল কেন্দ্রের। পরিচ্ছন্ন শক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং গ্রামগুলিকে 'জিরো ওয়েস্ট' হিসেবে গড়ে তুলতেই এই নতুন উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্যের পঞ্চায়েত দফতর। এই লক্ষ্যে দুর্গাপুরের সিএমইআরআই- এর সঙ্গে যৌথ ভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিন সিএমইআরআই এর ডিরেক্টর

নরেশচন্দ্র মুর্ম্মু জানান,বায়োগ্যাস প্রযুক্তি সুপ্রতিষ্ঠিত, কিন্তু বাস্তব জগতে সাফল্য অর্জনের জন্য প্রাথমিক স্থাপনার বাইরে যেতে হবে। এলপিজির ক্রমবর্ধমান দামের মোকাবিলা এবং পরিচ্ছন্ন শক্তির ব্যবহার বাড়াতে প্রতিটি জেলা পরিষদকে ঘরোয়া বায়োগ্যাস ব্যবহারে আরও জোর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এই প্রযুক্তি সম্পর্কে সকলের মধ্যে সচেতনতা তৈরির উপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা




 

 rajesh pande