
ঝাড়্গ্রাম, ১৫ সেপ্টেম্বর ( হি. স.): একমাত্র ছেলের মৃত্যুর পর বীমা পলিসির টাকা পেলেও দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর জন্য প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত ছিলেন ঝাড়গ্রামের এক বৃদ্ধ দম্পতি। দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে অবশেষে তাঁদের হাতে এল ১ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা। মঙ্গলবার প্রি-লিটিগেশন মামলার শুনানির মাধ্যমে সমস্যার নিষ্পত্তি হয়।
বেলপাহাড়ির বামুনডিহার বাসিন্দা সুকুমার মাহাতো পেশায় লরিচালক ছিলেন। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে পূর্ব বর্ধমানের ভাতার থানা এলাকায় ডাম্পারের সঙ্গে তাঁর লরির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় সুকুমারের। তাঁর নামে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত বীমা সংস্থায় দুটি পলিসি ছিল। একটি পলিসিতে নমিনি ছিলেন মা লুসকি মাহাতো এবং অন্যটিতে বাবা লালমোহন মাহাতো।
পরিবারের অভিযোগ, পলিসিতে জমা থাকা টাকার একটি অংশ মেটানো হলেও দুর্ঘটনায় মৃত্যুর জন্য নির্ধারিত অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন বীমা সংস্থার কাছে আবেদন করেও কোনও সমাধান না হওয়ায় চলতি বছরের জুলাইয়ে জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হন তাঁরা। এরপর বীমা সংস্থাকে নোটিশ দিয়ে শুনানি শুরু হয়। প্রায় দু’মাসের মধ্যেই সমস্যার সমাধান হয়। দুটি পলিসির দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর কভারেজ বাবদ ১ লক্ষ ১৫ হাজার এবং ৭৫ হাজার টাকা, মোট ১ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা দেওয়া হয় সুকুমারের বাবা মাকে।
জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সচিব তথা বিচারক রিহা ত্রিবেদী জানান, দুটি পলিসিতেই দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর কভারেজ ছিল। অভিযোগ পাওয়ার পর বীমা সংস্থাকে নোটিশ করে শুনানি করা হয়। সেই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়েছে। লালমোহন মাহাতো বলেন, “একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে আমরা খুবই অসহায় হয়ে পড়েছিলাম। শেষ পর্যন্ত প্রাপ্য টাকাটা হাতে পেয়েছি। এই অর্থ এখন আমাদের অনেকটাই ভরসা দেবে।”
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো