উজ্জ্বয়িনীতে খাড়ে হনুমান মন্দির ঘিরে ভক্তদের জমায়েত
উজ্জ্বয়িনী, ১৬ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : মধ্যপ্রদেশের উজ্জ্বয়িনী জেলার সরাফা বাজারে অবস্থিত খাড়ে হনুমান মন্দিরকে রাস্তা সম্প্রসারণের সময় বর্তমান স্থানেই রাখার দাবিতে বুধবার শক্তি প্রদর্শন করল সকল হিন্দু সমাজ। মন্দির থেকে কণ্ঠাল চৌরাস্তা পর্যন্ত প্রা
উজ্জ্বয়িনীতে খাড়ে হনুমান মন্দির ঘিরে ভক্তদের জমায়েত


উজ্জ্বয়িনী, ১৬ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : মধ্যপ্রদেশের উজ্জ্বয়িনী জেলার সরাফা বাজারে অবস্থিত খাড়ে হনুমান মন্দিরকে রাস্তা সম্প্রসারণের সময় বর্তমান স্থানেই রাখার দাবিতে বুধবার শক্তি প্রদর্শন করল সকল হিন্দু সমাজ। মন্দির থেকে কণ্ঠাল চৌরাস্তা পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভক্তদের ভিড় দেখা যায়। সাধু-সন্তরা হনুমানের প্রতিমা না সরানোর দাবি জানান এবং একই স্থানে একটি ভব্য মন্দির নির্মাণের সংকল্প করান।

বুধবার খাড়ে হনুমান মন্দিরের সমর্থনে পাঁচ হাজারেরও বেশি ভক্ত জমায়েত হন। মন্দির থেকে কণ্ঠাল চৌরাস্তা পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তার কোথাও পা রাখার জায়গা ছিল না। অনুষ্ঠানে সাধু-সন্তদের পাশাপাশি মহিলা ও শিশুরাও অংশ নেন। ভক্তরা হনুমান চালিসা পাঠ করেন এবং ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরাও মোতায়েন ছিলেন।

এদিন সাধু-সন্তরা ভক্তদের খাড়ে হনুমান সরকারকে একই স্থানে প্রতিষ্ঠিত রাখার সংকল্প করান। মঞ্চ থেকে তাঁরা বলেন, এর জন্য তাঁরা প্রাণ বিসর্জন দিতেও প্রস্তুত। প্রয়োজনে ঘামের সঙ্গে রক্তও ঝরাতে হবে বলে তাঁরা মন্তব্য করেন। প্রশাসনকে সতর্ক করে তাঁরা বলেন, প্রতিমা সরাতে হলে দিনের বেলায় সরিয়ে দেখানো হোক। গুলি বুক পেতে নেওয়ার জন্যও তাঁরা প্রস্তুত বলে জানান। তাঁদের দাবি না মানা হলে পরবর্তী কর্মসূচিতে পাঁচ হাজার নয়, ৫০ হাজার ভক্ত জমায়েত হবেন বলেও জানানো হয়।

সাধু-সন্তদের উপস্থিতিতে ভক্ত ও সমাজের প্রতিনিধিরা খাড়ে হনুমান মন্দিরকে বর্তমান স্থানেই রেখে একটি ভব্য মন্দির নির্মাণের সংকল্প নেন। সর্বসমাজের পক্ষ থেকে এসডিএম এলেন গর্গের কাছে বাবা মহাকালেশ্বরের নামে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এতে খাড়ে হনুমানের প্রতিমা বর্তমান স্থান থেকে না সরানোর দাবি জানানো হয়। স্মারকলিপিতে বলা হয়, রাস্তা সম্প্রসারণের সময় মন্দিরটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া যাবে না এবং প্রতিমাকে বর্তমান স্থানেই রাখতে হবে। ভক্তদের আস্থার কথা উল্লেখ করে একই জায়গায় একটি ভব্য মন্দির নির্মাণের দাবিও জানানো হয়।

বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) মহেশ আঞ্জনা বলেন, গত ১৫-১৭ দিন ধরে খাড়ে হনুমানজিকে সরানোর পরিকল্পনার কথা সামনে আসছে। সমাজের দাবি, প্রতিমাকে অন্যত্র সরানো যাবে না। বুধবার আস্থার প্রশ্নে হাজার হাজার মানুষ একত্রিত হয়েছেন। দাবি মানা না হলে সাধু-সন্তদের নেতৃত্বে ভিএইচপি ও বজরং দল পরবর্তী আন্দোলনের কৌশল নির্ধারণ করবে। পরবর্তী কর্মসূচিতে ৫০ হাজার মানুষ জমায়েত হবেন বলেও তিনি জানান।

মহাকাল মন্দিরের পুরোহিত মহেশ গুরু বলেন, খাড়ে হনুমানকে ঘিরে গোটা হিন্দু সমাজের আবেগের কথা প্রশাসনের কাছে জানানো হয়েছে। তিনি প্রতিমাকে বর্তমান স্থানেই রাখার পাশাপাশি মন্দিরের মর্যাদা বজায় রাখার দাবি জানান। প্রতিমা সরানোর সিদ্ধান্ত হলে রাতে নয়, দিনের বেলায় পদক্ষেপ করার জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, “তখন হিন্দুদের বুক আপনাদের সামনে থাকবে, যারা গুলি খাওয়ার জন্য নিজেদের সামনে এগিয়ে দেবে।”

সমাজের পক্ষ থেকে দেওয়া স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য খাড়ে হনুমান মন্দিরের আশপাশের কাঠামো ইতিমধ্যেই সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তা সত্ত্বেও প্রতিমা সরানোর চেষ্টা সফল হয়নি। সমাজের দাবি, প্রতিমাকে একই স্থানে রেখে মন্দিরের ভব্য রূপ গড়ে তুলতে হবে।

স্মারকলিপি গ্রহণের পর এসডিএম এলেন গর্গ বলেন, বাবা মহাকালেশ্বরের নামে স্মারকলিপি পাওয়া গেছে। প্রশাসন মানুষের দাবির কথা যথাযথ মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেবে। এ বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা মানুষকে জানানো হবে। বিক্ষোভ চলাকালীন সাধু-সন্তরা ভক্ত ও সমাজের প্রতিনিধিদের খাড়ে হনুমান মন্দিরের ভব্য নির্মাণের সংকল্পও করান। কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ছিল এবং পুরো সময় পুলিশ-প্রশাসনের দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল।

সিংহস্থ ২০২৮-এর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে উজ্জ্বয়িনীতে কণ্ঠাল-ছত্রী চৌক এলাকার সতি গেটে অবস্থিত খাড়ে হনুমান মন্দিরটি রাস্তা সম্প্রসারণ ও যান চলাচল সহজ করার জন্য সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন মন্দিরের কাঠামো সরিয়ে ফেললেও প্রাচীন হনুমান প্রতিমাটি ভারী যন্ত্র ও ক্রেনের সাহায্যেও সরানো সম্ভব হয়নি। এরপরই বিষয়টি আলোচনায় আসে। ভক্তরা ঘটনাটিকে আস্থা ও চমৎকার হিসেবে দেখছেন। তাঁদের দাবি, প্রতিমাকে অন্যত্র সরানো যাবে না এবং বর্তমান স্থানেই রাখতে হবে।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande