ইন্দোরে জীর্ণ বাড়ির দেওয়াল ভেঙে মৃত ৩, ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে আহত ৪
ইন্দোর, ১৬ সেপ্টেম্বর (হি.স.): মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর জেলার সাঁওরের তশন চৌরাস্তার কাছে বুধবার সন্ধ্যায় জীর্ণ বাড়ি ভাঙার সময় বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটে। একটি পুরনো বাড়ি ভাঙার কাজ চলাকালীন সংলগ্ন অন্য একটি বাড়ির জীর্ণ দেওয়াল আচমকাই ভেঙে পড়ে। দেওয়ালের ন
ইন্দোরে জীর্ণ বাড়ির দেওয়াল ভেঙে মৃত ৩, ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে আহত ৪


ইন্দোর, ১৬ সেপ্টেম্বর (হি.স.): মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর জেলার সাঁওরের তশন চৌরাস্তার কাছে বুধবার সন্ধ্যায় জীর্ণ বাড়ি ভাঙার সময় বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটে। একটি পুরনো বাড়ি ভাঙার কাজ চলাকালীন সংলগ্ন অন্য একটি বাড়ির জীর্ণ দেওয়াল আচমকাই ভেঙে পড়ে। দেওয়ালের নীচে চাপা পড়েন সেখানে কাজ করা শ্রমিকরা। দুর্ঘটনায় তিন মহিলার মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন চারজন। এসডিওপি দেবেন্দ্র ধুর্বে তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দুর্ঘটনাটি ঘটে সন্ধ্যা প্রায় ৪টের সময়। দেওয়াল ভেঙে পড়তেই ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ, প্রশাসন এবং নগর পরিষদের দল সেখানে পৌঁছয়। জেসিবি দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু হয়। ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধার করে অ্যাম্বুল্যান্সে হাসপাতালে পাঠানো হয়। দুর্ঘটনায় সাঁওরের বাসিন্দা সুশীলা, রমেশের স্ত্রী (৫০), রীনা, লাখনের স্ত্রী (৩০) এবং সীমা, ভেরুলালের স্ত্রী (৩০)-এর মৃত্যু হয়েছে। আহতরা হলেন চন্দা, রাহুলের স্ত্রী (২৫), সন্তোষ, মনোজের স্ত্রী (২৫), সুন্দরবাই, মায়ারামের স্ত্রী (৫৫) এবং মঞ্জু, সুনীলের স্ত্রী (৩০)। তাঁদের সকলকে চিকিৎসার জন্য অরবিন্দো হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ইন্দোরে স্থানান্তর করা হয়েছে।

তশন চৌরাস্তার কাছে একটি পুরনো ও জীর্ণ বাড়ি ভাঙার কাজ চলছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বাড়িটি ‘নেতাজির বিল্ডিং’ নামেও পরিচিত। বাড়িটি ভাঙার সময় সংলগ্ন আরেকটি পুরনো বাড়ির দেওয়াল আচমকা ধসে পড়ে। সেই সময় সেখানে কাজ করা শ্রমিকরা দেওয়ালের নীচে চাপা পড়েন। ঘটনার পর বিপুল সংখ্যক মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হন। উদ্ধারকাজে যাতে বাধা না পড়ে, সেজন্য পুলিশ ভিড় সরিয়ে দেয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত জেসিবি দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছিল। ধ্বংসস্তূপে আরও কেউ চাপা পড়ে থাকতে পারেন, সেই আশঙ্কায় প্রশাসনের দল তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, যে বাড়িটি ভাঙা হচ্ছিল, তার ছাউনি প্রায় এক মাস আগে ভেঙে পড়েছিল। এরপর বাসিন্দারা নগর পরিষদকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন। অভিযোগের পর বাড়ির মালিক দিনেশ জৈনকে বাড়ি খালি করার নোটিসও দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার পর নগর পরিষদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, বাড়িটির জীর্ণ অবস্থার কথা আগে থেকেই জানা থাকা সত্ত্বেও সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ করা হয়নি। দুর্ঘটনার সময় দিনেশ জৈন ঠিকাদারের সঙ্গে ঘটনাস্থলেই ছিলেন। তাঁর ‘জৈন বাস’ নামে পরিবহণের ব্যবসা রয়েছে।

এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মৃত ও আহতদের পরিজনেরা সাঁওরের হাসপাতালে পৌঁছে যান। আহতদের অবস্থা দেখে তাঁদের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ইন্দোরে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও প্রশাসনের দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছে। দুর্ঘটনার পরিস্থিতি এবং জীর্ণ বাড়ি ভাঙার সময় নিরাপত্তার কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আশপাশের অন্যান্য জীর্ণ ভবনের অবস্থাও প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সেগুলি নিয়ে আগে কোনও অভিযোগ বা নোটিস জারি হয়েছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande