
কলকাতা, ১৬ সেপ্টেম্বর (হি.স.): প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ২৫ বছরের জনজীবনের কথা উল্লেখ করে বুধবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, তাঁর আর্থিক নীতি দেশের দ্রুত অর্থনৈতিক বৃদ্ধির ভিত তৈরি করেছে। বুধবার বিকেলে কলকাতায় আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থেকে দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে মোদীর যাত্রার কথা উল্লেখ করেন। বলেন, ১৭ সেপ্টেম্বর তাঁর জন্মদিন এবং এর ঠিক ২০ দিন পর, ৭ অক্টোবর সরকারের প্রধান হিসেবে তাঁর ২৫ বছর পূর্ণ হবে।
রাজনাথ সিং বলেন, নরেন্দ্র মোদী গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ১৩ বছর দায়িত্ব সামলেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১২ বছরের দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর মতে, এই ২৫ বছরের যাত্রাকে যদি একটি শব্দে বাঁধতে হয়, তবে সেটি হলো ‘সেবা’। এই সময়কালে দেশের রাজনীতির পাশাপাশি উন্নয়ন, সুশাসন এবং বিশ্বমঞ্চে ভারতের অবস্থানের বড় পরিবর্তন এসেছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী মোদীর আর্থিক নীতিকে ‘মোদীনমিক্স’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ২০১৪ সালের আগেও ভারতের কাছে পর্যাপ্ত প্রতিভা ও মানবসম্পদ ছিল, কিন্তু তার পূর্ণ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো হচ্ছিল না। তাঁর বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী মোদী এমন এক ইকোসিস্টেম তৈরি করেছেন, যেখানে দেশের প্রতিভা ও মানবসম্পদ নিজেদের ক্ষমতা অনুযায়ী অবদান রাখতে পারে। তিনি বলেন, ভারত এখন আরও উন্নত নীতি এবং সুশাসনের সাথে এগিয়ে চলেছে। রাজনাথ সিং বলেন, সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোর সুবিধা সরাসরি প্রকৃত প্রাপকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা আগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী হয়েছে। তিনি দাবি করেন, গত ১২ বছরে ২৫ কোটি মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে এসেছেন এবং ৯৪ কোটিরও বেশি মানুষ সামাজিক সুরক্ষার আওতায় এসেছেন।
বর্তমান অর্থনৈতিক বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারত এখন ৭.৮ শতাংশ হারে এগিয়ে চলেছে। তিনি ‘মোদীনমিক্স’-কে অন্তর্ভুক্তিমূলক, নতুন যুগের অর্থনীতি, ডিজিটালাইজেশন, উদ্ভাবন ও আত্মনির্ভরশীলতার সঙ্গে যুক্ত করেন। রাজনাথ সিং জানান, আগে অনেক ক্ষেত্রে ‘অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা’ বজায় ছিল, কিন্তু এখন ‘নিষেধাজ্ঞা না থাকা পর্যন্ত অনুমতি’র নীতিকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এর ফলে উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা মানসিকতা এবং বেসরকারি ক্ষেত্রের অংশগ্রহণের সুযোগ অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের পরিবর্তনের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি জানান, ৪০টিরও বেশি অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি পুনর্গঠন করে সাতটি ডিফেন্স পাবলিক সেক্টর আন্ডারটেকিং (ডিপিএসইউ) তৈরি করা হয়েছে। তাঁর মতে, ২০১৪ সালের তুলনায় প্রতিরক্ষা উৎপাদন প্রায় চার গুণ বেড়ে ১.৮০ লক্ষ কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, অন্যদিকে প্রতিরক্ষা রফতানি ৫৬ গুণ বেড়েছে। ভারত এখন ১০০টিরও বেশি দেশে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রফতানি করছে।
লালকেল্লা থেকে বন্দে মাতরম্-এর সমবেত পরিবেশনার উল্লেখ
রাজনাথ সিং এ বছর স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের সময় লালকেল্লায় ‘বন্দে মাতরম্’-এর সমবেত পরিবেশনার উল্লেখ করে এটিকে পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শন বলে জানান। ২০২৬ সালে জাতীয় গীত ‘বন্দে মাতরম্’ রচনার ১৫০ বছর পূর্ণ হওয়ার সুযোগে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে একে বিশেষ স্থান দেওয়া হয়েছিল। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মতে, এই উপলক্ষে লালকেল্লার অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম্’-এর সমবেত পরিবেশনার আয়োজন করা হয়, যা পশ্চিমবঙ্গের জন্যও একটি বিরাট সম্মান।
১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ‘সেবা সে সংকল্প অভিযান’
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিন এবং সরকারের প্রধান হিসেবে তাঁর ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার ঐতিহাসিক মুহূর্তে বিজেপি ও এনডিএ-র সহযোগী দলগুলোর তরফ থেকে ‘সেবা সে সংকল্প অভিযান’ চালানো হবে। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে এই অভিযান শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। রাজনাথ সিং জানান, এর অধীনে সারা দেশে ১২টি প্রধান কর্মসূচির আয়োজন করা হবে, যার মধ্যে জনসেবা, সামাজিক কল্যাণ এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ সম্পর্কিত কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এই অভিযানের অংশ হিসেবে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের উপভোক্তাদের বাড়িতে প্রদীপ জ্বালানো, পথনাটক এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান-সহ বিভিন্ন ধরণের কর্মসূচি আয়োজন করা হবে। রাজনাথ সিং স্পষ্টভাবে জানান, প্রদীপ জ্বালানোর জন্য কারওর ওপর জোর করা হবে না; মানুষ নিজের ইচ্ছায় এতে অংশ নেবেন। তিনি বলেন, এই অভিযান শুধুমাত্র সরকারের সাফল্য বা পরিসংখ্যান তুলে ধরার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং দেশ গঠনে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানোর এক আন্তরিক প্রয়াস। তাঁর মতে, এটি কেবল একজন ব্যক্তির জনজীবনের গল্প নয়, এটি হলো ‘নতুন ভারতের’ উত্থানের গল্প।
বাংলার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রত্যাশা
পশ্চিমবঙ্গ প্রসঙ্গে রাজনাথ সিং আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে বলেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশনায় এই রাজ্য ‘বিকশিত ভারত’ গড়তে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদীর দক্ষ নেতৃত্বে দেশ অগ্রগতি, সুশাসন ও উন্নয়নের সঠিক পথে এগিয়ে চলেছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত পাঁচটি প্রধান গুণাবলীর কথা উল্লেখ করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। এর মধ্যে রয়েছে— দৃষ্টান্ত স্থাপন করে নেতৃত্ব দেওয়া, সম্মিলিত লক্ষ্য নির্ধারণের মাধ্যমে ঐকমত্য গড়ে তোলা, ইতিবাচক পরিবর্তন আনার সাহস, অন্যদের এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া এবং ভালো কাজের স্বীকৃতি ও উৎসাহ প্রদান।
রাজনাথ সিং ‘মন কি বাত’ এবং পদ্ম পুরস্কারের কথা উল্লেখ করে বলেন, এগুলোর মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রান্তিক স্তরে কাজ করা সাধারণ মানুষেরা ব্যাপক স্বীকৃতি পেয়েছেন। তিনি বলেন, সরকারের কাজের ওপর ভিত্তি করে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো প্রকল্পগুলোকে সবার সামনে তুলে ধরাই যেকোনও রাজনৈতিক ন্যারেটিভের সঠিক জবাব। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জীবন সবসময় চ্যালেঞ্জে ভরা ছিল, কিন্তু তিনি সমস্ত বাধা পেরিয়ে সামনে এগিয়ে গেছেন এবং ঠিক সেভাবেই দেশকে কঠিন পরিস্থিতি থেকে বের করে আনছেন। তাঁর দক্ষ নেতৃত্বেই দেশ আজ দ্রুত আত্মনির্ভরতার দিকে এগিয়ে চলেছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌম্যজিৎ