
চণ্ডীগড়, ১৮ সেপ্টেম্বর (হি.স.): ভারতীয় জনতা পার্টির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন শুক্রবার পাঠানকোট থেকে প্রথম ‘নেশামুক্ত পঞ্জাব যাত্রা’র সূচনা করেন। ‘বিজেপির স্লোগান, সব নেশা মুছে ফেলতে হবে’—এই সংকল্প নিয়ে শুরু হওয়া এই যাত্রা ৩০ সেপ্টেম্বর জলন্ধরে শেষ হবে।
এই উপলক্ষে নেশার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত লড়াইয়ের আহ্বান জানান নিতিন নবীন। গেরুয়া পাগড়ি পরে মঞ্চে এসে তিনি বলেন, পঞ্জাবিদের ‘উড়তা পঞ্জাব’ নয়, ‘উত্থানশীল পঞ্জাব’ চাই। তাঁর বক্তব্য, ক্ষমতার জোরে দুর্নীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়ে যারা পঞ্জাবকে নেশার কবলে ঠেলে দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত লড়াইয়ের সময় এসেছে। নীতিন নবীন বলেন, নেশা পঞ্জাবের পরিচয় বা শক্তি হতে পারে না। পঞ্জাবের পরিচয় হওয়া উচিত তার ঐতিহ্য, চিন্তাধারা ও যুবসমাজ। গুরুদের বাণী, কৃষকদের ঘাম এবং খেলোয়াড়দের উদ্যমই একসময় পঞ্জাবের পরিচয় ছিল। পঞ্জাবের মানুষ নিজেরাই নেশার বিরুদ্ধে লড়াই করবেন।
নেশার বিরুদ্ধে বিজেপির লড়াইয়ের মূল কৌশল তুলে ধরে নিতিন নবীন বলেন, নেশা পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, নেশার সরবরাহ চক্র ভেঙে দেওয়া, মাদক ব্যবসার অর্থ বাজেয়াপ্ত করা, নেশায় আক্রান্তদের পুনর্বাসন এবং সমাজের সহযোগিতায় এই লড়াইকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে কৌশলের অংশ। নিতিন নবীন বলেন, দেশে বিজেপি যে সংকল্প নেয়, তা পূরণ করে। ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের সংকল্প পূরণে দীর্ঘ লড়াই করা হয়েছে এবং সন্ত্রাসবাদ ও নকশালবাদ নির্মূল করা হয়েছে।
মঞ্চ থেকে পঞ্জাব বিজেপির সভাপতি কেবল সিং ঢিল্লোঁ বলেন, আজকের এই জমায়েত কোনও রাজনৈতিক সমাবেশ নয়। তাঁরা মা-বোনেদের দুঃখ ভাগ করে নিতে এসেছেন। তিনি বলেন, এটি একটি গণআন্দোলন। এর আওতায় ১১৭টি বিধানসভা কেন্দ্রে বাড়ি বাড়ি যাওয়া হবে এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সংকল্প অনুযায়ী আগামী দু’বছরের মধ্যে নেশাকে গোড়া থেকে নির্মূল করা হবে।
বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি মনপ্রীত সিং বাদল বলেন, পঞ্জাব ধীরে ধীরে নিজের পরিচয় হারাচ্ছে। আগে পঞ্জাবের যে ছবি ছিল, এখন আর তা নেই। অশ্বিনী শর্মা বলেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে সম্পর্কিত ঐতিহাসিক স্থান থেকে যাত্রা শুরু করে বিজেপি নেশার বিরুদ্ধে গণআন্দোলন শুরু করেছে। এর ব্যানার রাজনৈতিক হতে পারে, কিন্তু সমস্যা প্রতিটি ঘরের।
সমাবেশে অন্যান্য নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিজয় সাম্পলা, সংসদীয় কমিটির সদস্য ইকবাল সিং লালপুরা, প্রাক্তন লোকসভা সদস্য পরনীত কৌর, প্রাক্তন রাজ্যসভা সদস্য শ্বেত মালিক, প্রাক্তন পঞ্জাব মন্ত্রী মনোরঞ্জন কালিয়া, মুকেরিয়াঁর বিধায়ক জঙ্গি লাল মহাজন এবং পঞ্জাব বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার দীনেশ বাব্বু।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য