মহুয়া মৈত্রকে ডিম ছোড়া ও কালো পতাকা দেখানোর ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের
নদিয়া, ১৮ সেপ্টেম্বর (হি. স.) : তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া এবং কালো পতাকা দেখানোর ঘটনায় পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র শুক্রবার নদিয়ার তেহট্ট থানায় ই-মেলের মাধ্যমে এই অভি
মহুয়া মৈত্রকে ডিম ছোড়া ও কালো পতাকা দেখানোর ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের


নদিয়া, ১৮ সেপ্টেম্বর (হি. স.) : তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া এবং কালো পতাকা দেখানোর ঘটনায় পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র শুক্রবার নদিয়ার তেহট্ট থানায় ই-মেলের মাধ্যমে এই অভিযোগ পাঠিয়েছেন। অভিযোগে তেহট্ট-১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ও সহ-সভাপতি সহ বিজেপির মোট আটজন নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, এই অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

সূত্র অনুযায়ী, গত বুধবার মহুয়া মৈত্র তেহট্টের হাউলিয়া পার্ক মোড় সংলগ্ন তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিসে দলীয় নেতা ও কর্মীদের নিয়ে এক বৈঠকে যোগ দিতে গিয়েছিলেন। অভিযোগ, তাঁর আগমনের খবর পেয়ে বিজেপির কিছু কর্মী ও সমর্থক পার্টি অফিসের সামনে জড়ো হন। বৈঠক শেষে মহুয়া মৈত্র পার্টি অফিস থেকে বের হওয়া মাত্রই বিক্ষোভকারীরা তাঁকে কালো পতাকা দেখায় এবং ‘গো ব্যাক’ স্লোগান তুলতে থাকে। সেই সময়ই তাঁকে লক্ষ্য করে কাঁচা ডিম ছোড়া হয় বলে অভিযোগ।

মহুয়া মৈত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করেন যে, বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণ করার পরিবর্তে পুলিশ তাঁকে জোর করে গাড়িতে বসিয়ে দেয়। গাড়িতে ওঠার পরও তাঁকে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। এই প্রসঙ্গে তিনি সুপ্রিম কোর্টের বিচাকপতি দীপঙ্কর দত্তের একটি পুরোনো মন্তব্যের উল্লেখ করে বলেন যে, তিনি ‘বুলেটের মতো ডিম খাচ্ছেন’। উল্লেখ্য, গত আগস্টে মহুয়ার একটি মামলা সংক্রান্ত শুনানিতে বিচারপতি দত্ত মন্তব্য করেছিলেন যে, রাজনীতিতে আসলে ডিম ছোড়াকে ভয় পাওয়ার কারণ নেই, স্বাধীনতা সংগ্রামীরা বুকে গুলি খেয়েছিলেন।

বুধবারের বিক্ষোভের পর মহুয়া মৈত্র অভিযোগ তুলেছিলেন যে, এটি সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভ নয়, বরং বিজেপির একটি পরিকল্পিত আক্রমণ। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার তিনি আটজন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ ও উপলব্ধ ভিডিও পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, বিজেপি তৃণমূল সাংসদের এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছে।

তেহট্টের বিজেপি বিধায়ক সুব্রত কবিরাজ দাবি করেন যে, এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও কর্মী বা সমর্থকের সংশ্লিষ্টতা নেই। তিনি বলেন, হিন্দু দেব-দেবী নিয়ে সাংসদের বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভ জমেছিল এবং বুধবারের প্রতিবাদটি ছিল সেই জনক্ষোভেরই ফল।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande