
কলকাতা, ১৯ সেপ্টেম্বর (হি. স.) : তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় প্রতীক 'জোড়া ফুল' ফ্রিজ হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন কর্তৃক দলীয় প্রতীক পুনর্বণ্টনের প্রক্রিয়ায় ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী এবং হুমায়ুন কবীরকে নতুন প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে। ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ)-এর হাত থেকে 'খাম' প্রতীক ফেরত নিয়ে আগেই তা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস'-কে দেওয়া হয়েছিল। এবার নৌশাদের দলকে নতুন প্রতীক হিসেবে 'আলমারি' বরাদ্দ করেছে কমিশন। অন্যদিকে, হুমায়ুন কবীরের 'আমজনতা উন্নয়ন পার্টি' (এজেইউপি)-র থেকে 'বাঁশি' প্রতীক প্রত্যাহার করে তাদের 'টেবিল' প্রতীক দেওয়া হয়েছে।
আগামী ৬ অক্টোবর রাজ্যের দুই হাই-ভোল্টেজ বিধানসভা কেন্দ্র—নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। ভোটের এই চরম মুহূর্তে দলীয় প্রতীক বদলে যাওয়ায় গভীর দুশ্চিন্তায় পড়েছেন হুমায়ুন কবীর। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করে 'বাঁশি' প্রতীকে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। তবে উপনির্বাচনে এই প্রতীক তাঁর কাছে থাকবে কি না, তা নিয়ে তিনি আগেই সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। শনিবার সেই আশঙ্কাই সত্যি প্রমাণিত হলো। নির্বাচন কমিশন হুমায়ুনের থেকে 'বাঁশি' প্রতীক তুলে নিয়ে তা দক্ষিণ ভারতীয় তারকা থলপতি বিজয়ের দল 'টিভিকে' -কে বরাদ্দ করেছে এবং হুমায়ুনকে দেওয়া হয়েছে 'টেবিল' প্রতীক।
অন্যদিকে, নিজেদের পছন্দের 'খাম' প্রতীক বাঁচানোর আইনি ও প্রশাসনিক লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত হারের মুখ দেখতে হলো নওশাদ সিদ্দিকীকে। চলতি বছরের মার্চ মাসেই নিয়ম মেনে নির্বাচন কমিশনে 'খাম' প্রতীকের জন্য আবেদন জানিয়েছিল আইএসএফ নেতৃত্ব। কিন্তু শুক্রবার যখন কমিশন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নতুন দলকে ওই একই প্রতীক বরাদ্দ করে, তখন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন নওশাদ। তড়িঘড়ি বিভিন্ন নথিপত্র পেশ করে সাংবাদিক বৈঠক ডেকে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানান তিনি।
তবে শনিবার নির্বাচন কমিশন নওশাদের সমস্ত দাবি খারিজ করে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে 'খাম' প্রতীক কেবল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস'-এর জন্যই সংরক্ষিত থাকবে। এর পরিবর্তে বিকল্প হিসেবে আইএসএফ-কে দেওয়া হয়েছে 'আলমারি' প্রতীক।
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের প্রচারের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। ভোটের চরম মুহূর্তে 'বাঁশি'-র বদলে 'টেবিল' এবং 'খাম'-এর জায়গায় 'আলমারি' প্রতীক নিয়ে সাধারণ ভোটারদের দুয়ারে পৌঁছানো কতটা সহজ হবে, তা নিয়ে উভয় দলের কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি