
- বিবেকানন্দ বিদ্যা বিকাশ পরিষদের বার্ষিক অনুষ্ঠান
কলকাতা, ৩ সেপ্টেম্বর (হি.স.): দেশব্যাপী শিশু মন্দিরের মাধ্যমে মানসম্মত শিক্ষা প্রদানকারী সর্বভারতীয় সংস্থা বিদ্যা ভারতীর স্থানীয় শাখা বিবেকানন্দ বিদ্যা বিকাশ পরিষদের বার্ষিক অনুষ্ঠান বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হলো। কলকাতার গোলপার্কের রামকৃষ্ণ মিশন ইনস্টিটিউট অফ কালচার অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
অনুষ্ঠানের মূল বক্তা তথা বিদ্যা ভারতীর সর্বভারতীয় সহ-সংগঠন মন্ত্রী যতীন্দ্র শর্মা বলেন, সমাজকে জাগ্রত করার সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম হলো শিক্ষা। বিদ্যা ভারতী মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে উচ্চমানের সংস্কার ও রাষ্ট্র চেতনা জাগ্রত করার অভিযানে বছরের পর বছর ধরে নিয়োজিত রয়েছে। তিনি বলেন, সংস্থাটি দেশব্যাপী তার বিদ্যালয়গুলির মাধ্যমে মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের মধ্যে উচ্চমানের সংস্কার, দেশপ্রেম, মানবিকতা ও স্বদেশী ভাবনার প্রসারে নিয়োজিত রয়েছে।
উত্তর-পূর্ব ভারতের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, বিদ্যা ভারতীর মানসম্মত শিক্ষার মাধ্যমে এই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদের অনুভূতিকে দুর্বল করে দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রত্যন্ত এলাকা ও দুর্গম স্থানেও বিদ্যা ভারতী শিক্ষার আলো বিস্তার করছে। শিক্ষার মাধ্যমে সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণে প্রতিষ্ঠানটি বহুলাংশে সফল হয়েছে। জাতিভেদ প্রথা, অস্পৃশ্যতা, বাল্যবিবাহের মতো কুপ্রথা দূর করাও বিদ্যা ভারতীর অন্যতম উদ্দেশ্য।
তিনি বলেন, বিদ্যা ভারতী একদিকে যেমন হিন্দুত্বের আদর্শ প্রসারিত করছে, অন্যদিকে বিভিন্ন বৈষম্য ও কুপ্রথা থেকে সমাজকে মুক্ত করে জাতীয় সংহতির লক্ষ্যেও নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। যতীন্দ্র শর্মা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে অনুরোধ জানান, তিনি যেন পশ্চিমবঙ্গে বিদ্যা বিকাশ পরিষদের কার্যক্রম প্রসারে যথাসম্ভব সহযোগিতা করেন। এর আগে বিদ্যা ভারতীর প্রবীণ কার্যকর্তা রবীন্দ্র চামারিয়া দেশব্যাপী বিদ্যা ভারতীর কাজকর্ম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেন। তিনি জানান, সারা দেশের শিশু মন্দিরগুলিতে ১০ লক্ষ ৮৪ হাজার শিশু শিক্ষা গ্রহণ করছে, বেসরকারি স্তরে এটি একটি রেকর্ড।
অনুষ্ঠানের শুরুতে একটি চিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে দেশব্যাপী এই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কার্যক্রমের সচিত্র বিবরণ তুলে ধরা হয়। এ ছাড়া কয়েকজন মেধাবী পড়ুয়াও তাদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেয়। বিবেকানন্দ বিদ্যা বিকাশ পরিষদের সভাপতি ভগবতী প্রসাদ জালান, ট্রাস্টি রাজেন্দ্র কুমার গুপ্ত, রাজেন্দ্র প্রসাদ খৈতান ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক ছাত্র, আচার্য ও আমন্ত্রিত অতিথি উপস্থিত ছিলেন।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌম্যজিৎ