
দুর্গাপুর, ৫ সেপ্টেম্বর (হি. স.): রাজ্যে সরকার পরিবর্তনে বদলাচ্ছে শিল্প পরিবেশ। নিজের এলাকায় আর্থ সামাজিক উন্নয়নে উদ্যোগী হল খোদ বিধায়ক। বিনিয়োগ টানতে এবার পাণ্ডবেশ্বরে 'ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কনক্লেভ' র আয়োজন করার উদ্যোগ নিল বিধায়ক জিতেন্দ্রনাথ তেওয়ারি।
প্রসঙ্গত, গত পনেরো বছরে রাজ্যে শিল্পে খরা পড়েছিল বলে অভিযোগ। বেড়েছে বেকারত্ব। মুখ থুবড়ে পড়েছে আর্থ সামাজিক পরিবেশ। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর নতুন করে আশার আলো দেখছে যেমন রাজ্যবাসী। তেমনই উৎসাহী উদ্যোগপতিরা। ইতিমধ্যে, চলতি বাজেটে বাংলার জন্য একগুচ্ছ প্রকল্প ঘোষণা অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনের।বাজেট ভাষণে তিনি বলেন, পূর্ব ভারত এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের উন্নয়নের জন্য বাড়তি জোর দেওয়া হচ্ছে। যে কারণে দুর্গাপুরে ইন্টিগ্রেটেড ইস্ট-কোস্ট করিডর তৈরি করা হবে। এছাড়াও, পূর্ব ভারতের পাঁচটি রাজ্যে পাঁচটি পর্যটন কেন্দ্র তৈরির ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। ৪,০০০টি ইলেকট্রিক বাসের প্রস্তাব দিয়েছেন। পণ্য পরিবহনে বাংলা ও গুজরাটকে জুড়ে দেন। ডানকুনি থেকে সুরাটের ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর তৈরির ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী নির্মাল সীতারমন। সেইসঙ্গে সাতটি হাইস্পিড রেল করিডরও তৈরি করা হবে। করিডর কি? করিডর হল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটিয়ে শিল্পের উপযোগী করা হয়। যার মধ্যে ১২ লেনের চওড়া রাস্তা। এয়ারপোর্ট নির্মাণ বা এয়ারপোর্টের পরিকাঠামো উন্নয়ন করা হয়। শিল্প উপযোগী জমি ও ল্যান্ডব্যাঙ্ক তৈরি করা হয়। যাতে জমি জট ছাড়া দ্রুত জমি দেওয়া যায় বিনিয়োগকারীদের। শ্রমব্যাঙ্ক তৈরি করা হয়। যেখান থেকে প্রয়োজন মতো শ্রমিক নিতে পারবেন বিনিয়োগকারী এগুলো মোটামুটি হয়ে গেলে বিশ্ববাজারে প্রমোট করা হয় এই করিডরে থাকা জায়গাগুলিকে। বিশ্বের বড় বড় বিনিয়োগকারীদের সামনে এই জায়গাগুলো রেখে বলা হয়, দেখুন এখানে এই শিল্পের প্রয়োজনীয় এই এই পরিকাঠামো আছে, আপনারা বিনিয়োগ করুন। এবার আসা যাক্ শিল্প করিডর দুর্গাপুর। শিল্পপতিদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর 'ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কনক্লেভ' আয়োজন করা হচ্ছে পান্ডবেশ্বরে। মূলত , রাজ্যের শিল্প বান্ধব পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে এবার পাণ্ডবেশ্বরে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও ছোট শিল্পের হাব তৈরির উদ্যোগ। পান্ডবেশ্বরের বিধায়ক জিতেন্দ্রতেওয়ারি বলেন, পাণ্ডবেশ্বরে শিল্পের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আগে তুলনায় পাণ্ডবেশ্বর বদলে গেছে। আমরা সেই জন্য এরকম সম্মেলন করছি।'' তিনি আরও বলেন, রাজ্যে নতুন সরকার আসার পর শিল্প ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পরিবেশের পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে শিল্পপতিদের জন্য নিরাপদ ও শিল্পবান্ধব পরিবেশ রয়েছে। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিল্প গড়ে তোলার সম্ভাবনা, জমির প্রাপ্যতা এবং বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ, এই সমস্ত বিষয়কে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিল্পপতি ও বিনিয়োগকারীদের পাণ্ডবেশ্বরে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে নতুন করে শিল্পোদ্যোগীরা এই এলাকায় বিনিয়োগের ব্যাপারে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। এই লক্ষ্যেই আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর পাণ্ডবেশ্বরে শিল্প কনক্লেভের আয়োজন করা হচ্ছে। মূলত যাঁরা এই অঞ্চলে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও ছোট শিল্প স্থাপনে আগ্রহী, তাঁদের ওই কনক্লেভে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই এই শিল্প কনক্লেভকে ঘিরে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এই সম্মেলনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বড় বিনিয়োগকারী ও শিল্পপতিদের পাণ্ডবেশ্বরের শিল্প সম্ভাবনার সঙ্গে পরিচয় করানো হবে। উখড়া চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মনোজ শরাফ বলেন, “আগের সরকারের তুলনায় বর্তমানে রাজ্যে অনেক বেশি শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরি হয়েছে। নতুন করে শিল্পপতিরাও বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছেন। তবে শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে সরকারি অনুমোদনের প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত করা দরকার।” জিতেন্দ্র তিওয়ারি আরও বলেন, শিল্প ও বিনিয়োগ বাড়লে এলাকায় কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। শুধু বড় শিল্প নয়, এর পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, পরিবহণ এবং ছোট ও মাঝারি শিল্পও উপকৃত হবে। বিশেষ করে পাণ্ডবেশ্বরের স্থানীয় যুবকদের জন্য তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ। এলাকার আর্থ সামাজিক উন্নয়ন হবে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা