
কলকাতা, ৫ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য দফতর বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রাথমিক রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর হাসপাতালের অধ্যক্ষ তথা এমএসভিপি প্রসেনজিৎ বরকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আধিকারিক সূত্রে জানানো হয়েছে, হাসপাতালে প্রতিটি শিশুর মৃত্যুর কারণ আলাদাভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মালদা মেডিক্যাল কলেজে আগস্ট মাসে একদিনেই ১০ জন শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল। পরবর্তীতে মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে চিকিৎসা চলাকালীন ৬০ জনেরও বেশি শিশুর মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসে। পরিস্থিতির গুরুত্ব উপলব্ধি করে স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে চার সদস্যের এক প্রতিনিধি দলকে মালদায় পাঠানো হয়।
বিশেষজ্ঞ কমিটি গত সপ্তাহে মেডিক্যাল কলেজ পরিদর্শনের মাধ্যমে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে। কমিটির রিপোর্টে জানানো হয়েছে, সমগ্র আগস্ট মাস জুড়ে মালদা মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোট ৮৯ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই মৃত্যুর পেছনে আসল কারণ ও হাসপাতালের চিকিৎসা পরিকাঠামো বিশদে পরীক্ষা করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞ কমিটির চেয়ারম্যান চিকিৎসক প্রলয় আচার্য জানান, শিশুদের মৃত্যুর পেছনে একাধিক কারণ উঠে এসেছে। তার মধ্যে অপুষ্টি অন্যতম প্রধান কারণ। এছাড়া জন্মের পর শ্বাসকষ্ট, হৃদযন্ত্রজনিত সমস্যা, জন্ডিস এবং কম ওজন নিয়ে জন্মানো শিশুদের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। কমিটি প্রতিটি বিষয়ের চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি ও রিপোর্ট পৃথকভাবে পর্যালোচনা করছে।
তদন্ত চলাকালীন জেলা স্বাস্থ্য দফতরের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব ধরা পড়েছে। এর পাশাপাশি হাসপাতালের পরিকাঠামো ও চিকিৎসা পরিষেবা প্রদানেও বেশ কিছু ত্রুটি চিহ্নিত করা গেছে। এই সমস্ত বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট রাজ্য সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে।
হাসপাতালের অধ্যক্ষ তথা এমএসভিপি প্রসেনজিৎ বরকে অপসারণের বিষয়ে মালদা মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপাল পার্থপ্রতিম মুখোপাধ্যায় শনিবার সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া দিয়ে বলেন, স্বাস্থ্য ভবন থেকে রিপোর্ট এসেছে এবং তারই ভিত্তিতে কিছু প্রশাসনিক রদবদল করা হয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি