
হুগলি , ৫ সেপ্টেম্বর (হি.স.): ডিভিসি জল ছাড়া কমালেও খানাকুলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এখনও বিপদসীমা দিয়ে বইছে খানাকুলের উপর দিয়ে বয়ে চলা নদীগুলি। খানাকুলের মোট আটটি পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন। নতুন জলমগ্ন হয়ে পড়েছে বেশ কিছু পঞ্চায়েত এলাকা। খানাকুলের মাড়োখানা, জগৎপুরের অধিকাংশ জায়গা আগেই জলের তলায়। নতুন করে খানাকুল ১ ব্লকের অরুণ্ডা, পোল-১, পোল-২ পঞ্চায়েত এলাকায় জল ঢুকতে শুরু করেছে।এর পাশাপাশি রাজহাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের রাধাকৃষ্ণ পুর, নন্দনপুর,জগদীশ তলা, বার নন্দন পুর সহ একাধিক গ্রামও নতুন করে জলমগ্ন হয়েছে।
এর জেরে বেড়েছে মানুষের দুর্ভোগ। গ্রামের পর গ্রাম বিচ্ছিন্ন। মূল রাস্তায় চলছে নৌকা।কিন্তু সেই নৌকা কোন সরকারি ভাবে দেওয়া হয়নি।যে যার নিজের নিজের নৌকা করেই যাতায়াত করছেন।তবে মাড়োখানা পঞ্চায়েত থেকে পানশিউলি বাজার অবধি মূল রাস্তা জলের তলায়। প্রায় ৩ কিমি রাস্তা পায়ে হেঁটে জল ঠেলে যাতায়াত করতে হচ্ছে এলাকার মানুষকে। অনেক বাড়িতেই উঠোন থেকে নৌকায় করে চলছে যাতায়াত। এখন এলাকার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা নৌকা। তবে সবার বাড়িতে নৌকা নেই। কোথাও কোমর সমান জল, কোথাও একহাঁটু জল পেরিয়ে চলছে দুর্ভোগের যাতায়াত।এর মধ্যেই স্বাস্থ্য কর্মীরা এই অবস্থাতেই পরিষেবা দিচ্ছেন। জল পার হয়েই তাদের সব কিছুই করতে হচ্ছে।নিজেদের ঘর ডুবলেও স্বাস্থ্য পরিষেবা তারা দিয়ে যাচ্ছেন সেই বিপদের ঝুঁকি নিয়েই।
বিভিন্ন ফেরি ঘাটে পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।এতে করে পানশিউলি এলাকায় যে ফেরি পরিষেবা ছিল তা না চালু থাকায় ব্যাপক দুর্ভোগের মধ্যেই পড়েছেন তিন জেলার হাজার হাজার মানুষ। একদিকে হাওড়ার ভাটোরা, অন্যদিকে পশ্চিম মেদিনীপুরের কইজুড়ি আর খানাকুলের মারোখানা, এই এলাকার মানুষ সমস্যায় পড়েছেন। খানাকুলের মাড়োখানা, জগৎপুরের অধিকাংশ এলাকাই জলের তলায়। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় বাজারে ক্রেতার সংখ্যা কমে গেছে। ফলে অধিকাংশ দোকান বন্ধ। যে সব দোকান খোলা রয়েছে, সেখানেও ক্রেতা নেই। ফলে প্রভাব পড়েছে ব্যবসায়। এর জেরে পুজোর আগে ক্ষতির মুখে পড়েছেন এলাকার ব্যবসায়ীরা। সকলেই চাইছেন দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হোক, ফেরি চলাচল আবার শুরু হোক। পাশাপশি পাণীয় জলের অপ্রতুলতায় বেশ বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। খাবার জল পাচ্ছেন না।জলের কল ডুবেছে। নেই পাণীয় জলের পরিষেবা। এদিকে খানাকুলের বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের প্রতি মন্ত্রী সুমনা সরকার আসেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জেলা প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা। ছিলেন খানাকুল বিধায়ক সুশান্ত ঘোষ সহ একাধিক ব্যক্তিত্ব।তারা প্লাবিত এলাকায় ট্রাক্টর চেপে হাজির হন মারোখানায়। সেখানে বহু বন্যা কবলিত মানুষ হাজির ছিলেন। সেখানে মন্ত্রী হাজির হন। তিনি হাজির হওয়া বহু মানুষ কে শুকনো খাবার দেন। রান্না করা খিচুড়ি বিতরণ করেন মন্ত্রী ও বিধায়ক। তবে সুমনা সরকার বলেন,খানাকুল সহ গোটা এলাকায় ৬৫ টি ক্যাম্প করা হয়েছে।সেই সব ক্যাম্প থেকে খিচুড়ি,শুকনো খাবার ও পাণীয় জল দেওয়া হয়।প্রশাসন তৎপর আছে। তবে জল ছাড়া কমলেও জল কমেনি এলাকা থেকে। যার ফলে বেড়েছে দুর্ভোগ।
হিন্দুস্থান সমাচার / SANTOSH SANTRA