
আগরতলা, ৫ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : দাবি আদায়ের জন্য জাতীয় সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগে ফেলা কোনওভাবেই কাম্য নয়। তার পরিবর্তে দাবি আদায়ের লক্ষ্যে অনশন আন্দোলনে বসার জন্য রাজ্যের আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিদের প্রতি আহ্বান জানালেন কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন। একই সঙ্গে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিদের দাবিগুলি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুদীপ রায় বর্মন বলেন, চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিদের পক্ষ থেকে কিছুদিন অন্তর অন্তর জাতীয় সড়ক ও রেল অবরোধের কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে রাজ্যের স্বাভাবিক জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন সাধারণ মানুষ এবং মুমূর্ষু রোগীরা। জরুরি প্রয়োজনে রোগীদের নিয়ে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে যাতায়াতকারী মানুষকেও অবরোধের কারণে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে হচ্ছে।
বিধায়ক বলেন, “দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন করুন, কিন্তু এমন কোনও কর্মসূচি গ্রহণ করা উচিত নয় যাতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়।” তাঁর মতে, দাবি আদায়ের ক্ষেত্রে অনশন একটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যম। তাই মানুষের চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ অনশন কর্মসূচি গ্রহণ করতে পারেন।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন সুদীপ রায় বর্মন। তাঁর অভিযোগ, আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিরা যখন অবরোধের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল, তখনই প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত ছিল। কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে পরিস্থিতি বারবার একই জায়গায় ফিরে আসছে। তাঁর কথায়, “কিছু হলেই রেল ও সড়ক অবরোধ—এটা মেনে নেওয়া যায় না। প্রশাসন এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে যে তাদের অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।”
তবে বিষয়টিকে এখনই রাজনৈতিক রূপ দিতে চান না বলে স্পষ্ট করেন কংগ্রেস বিধায়ক। তিনি বলেন, আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিরা কী ধরনের অস্ত্র জমা দিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কী ধরনের মামলা ছিল এবং কতগুলি আগ্নেয়াস্ত্র তাঁরা সমর্পণ করেছেন—এই সংক্রান্ত সঠিক তথ্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে থাকার কথা। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই তাঁদের দাবিগুলি এবং চুক্তির প্রতিশ্রুতিগুলি বাস্তবায়নের বিষয়টি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
সুদীপ রায় বর্মনের বক্তব্য, যারা অস্ত্র ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছেন, তাঁদের পুনর্বাসন ও উন্নয়নের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। বিশেষ করে টিটিএএডিসি এলাকার সাধারণ মানুষের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে একটি কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য প্যাকেজ ঘোষণা করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী দিল্লি থেকে ফিরে জনজাতিদের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে একটি ভালো প্যাকেজ ঘোষণা করবেন বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
এদিন কেন্দ্রীয় করের অংশীদারিত্ব নিয়েও নিজের দলের অবস্থান তুলে ধরেন সুদীপ রায় বর্মন। তাঁর বক্তব্য, “সেন্ট্রাল শেয়ার অফ ট্যাক্সের বিষয়টি আমরা দাবি করেছি। কেন্দ্রীয় কর-এর সবটাই কেন রাজ্য পাবে, টিটিএএডিসি কেন পাবে না?” টিটিএএডিসি এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে আর্থিক ক্ষমতা ও সম্পদের বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে তিনি দাবি করেন।
পাশাপাশি কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরে সংবিধানের ১২৫তম সংশোধনী বিল বাস্তবায়ন এবং ককবরক ভাষার রোমান হরফে লেখার দাবিও জানিয়ে আসছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, জনজাতিদের সাংবিধানিক অধিকার, আর্থিক ক্ষমতায়ন এবং সার্বিক উন্নয়নের প্রশ্নে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।
সুদীপ রায় বর্মনের বক্তব্যে একদিকে যেমন আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিরা ন্যায্য দাবির প্রতি সমর্থনের ইঙ্গিত রয়েছে, অন্যদিকে আন্দোলনের নামে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি না করার বার্তাও স্পষ্ট। তাঁর আহ্বান, দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন হোক, কিন্তু সেই আন্দোলনের পদ্ধতি যেন সাধারণ মানুষের জীবন ও জরুরি পরিষেবাকে অচল করে না দেয়। একই সঙ্গে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকেও দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পথে এগিয়ে আসতে হবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ