
বাঁকুড়া, ৬ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : একদিকে উন্নয়নের ঢঙ্কা নিনাদ অপরদিকে অন্ধকারে বাঁকুড়ার গ্রাম। যেখানে আজও কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে খাটিয়ায় করে জলভরা খাল পেরিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়।বাঁকুড়ার সিমলাপাল থানার দুবরাজপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কুশতোড়া,বিরারডাঙ্গা গ্রামের এই হাল।গ্রামের জনজাতিরা ক্ষোভের সঙ্গে জানান শুধুমাত্র বেঁচে থাকার জন্য আজও আমাদের লড়াই করতে হচ্ছে। উন্নয়ন কী তা আমরা জানি না। বর্ষায় বা ভারী বৃষ্টি হলে আমাদের দুর্দশার সীমা থাকে না। গত ১৫ বছর গ্রামের উন্নয়ন নিয়ে আমরা অনেক আবেদন নিবেদন করেছি। কোনও লাভ হয় নি। রাজ্যে সরকার বদল হয়েছে।
তাই আশা, আমাদের অবস্থাটাও বদলাবে নতুন সরকারের হাত ধরে।
তাদের বক্তব্য, বর্ষায় বা ভারী বৃষ্টি হলে মোজরা খালের জলে গ্রাম জলবন্দি হয়ে পড়ে।এমনকি প্রবল স্রোতে জল বয়ে যায়।দীর্ঘদিন তাদের ভোগ করতে হয় এই সমস্যা। গ্রাম থেকে চিকিৎসা, জীবিকা এমনকি শিক্ষার জন্য বাইরে যাওয়া সমস্যা ও ঝুঁকিপূর্ন হয়ে ওঠে। সেই জলের স্রোত পার হতে গিয়ে ঘটে দুর্ঘটনা।
অনন্ত সরেন ও তুহিন মাহাতো সহ স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিকূলতা সঙ্গে লড়াই করে কাটছে তাদের জীবন। এই বিরারডাঙ্গাগ্রামের কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াটাই সমস্যার হয়ে ওঠে। প্রথমে গ্রামবাসীদের জড় করে তাকে খাটিয়ায় শুইয়ে হাঁটু জল ও কাদা এবং পিছল মাটিতে ভরে থাকা খাল পার হয়ে বড় রাস্তায় আনতে হয়। সেখান থেকে টোটো করে নিয়ে যেতে হয় হাসপাতালে। স্থানীয় বাসিন্দা রাম সরেন ও রঘুনাথ মাহাতো বলেন,
দীর্ঘদিন ধরে সেতুর দাবি জানিয়ে আসছেন। প্রতিশ্রুতি মিলেছে অনেক কিন্তু গ্রামের উন্নয়নের কাজ হয়নি। তাদের দাবি, মোজরা খালের ওপর স্থায়ী সেতু ও রাস্তা তৈরি করা দ্রুত দরকার। এই গ্রামে আবাস যোজনা সহ সার্বিক উন্নয়ন দরকার। গ্রামবাসীদের আরও অভিযোগ গত মঙ্গলবার এই খালের পাড়ে এক বেদনাদায়ক ঘটনাও ঘটেছে। মাটির বাড়ির দেওয়াল ধসে পড়ে ঘুমন্ত অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে এক দম্পতি পালকু বাস্কে (৩৪) ও স্ত্রী সোনা বাস্কে (২৮)। বাড়িটির মাঝখানে থাকা একটি ছিটেবেড়ার দেওয়াল রাতে তাদের মাথার ওপর ভেঙে পড়েছিল।
বুধবার দুবরাজপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান কমলা রানা পুলিশ ও প্রশাসনকে বিষয়টি জানান। ব্লক প্রশাসনের আধিকারিক ও পুলিশকর্মীরা ঘটনাস্থলে এসেও ছিলেন।কিন্তু দুটি জীবন তো ঝরে গেল সরকারি অবহেলায়।স্থানীয়দের দাবি, বর্ষার সময় পালকু বাস্কের মাটির বাড়িটি যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। অন্যদিকে, সোনা বাস্কের আবাস যোজনার বাড়ি তৈরির দ্বীতিয় কিস্তির টাকা আটকে রয়েছে। তাদের অভিযোগ ১৪টি সাঁওতাল দিনমজুর পরিবারের বাস হওয়ায় উন্নয়ন অধরা।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সোমনাথ বরাট