
দুৰ্বৃত্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস পুলিশ প্রশাসনের
ঢাকা, ৩ জানুয়ারি (হি.স.) : ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে মারা গেলেন শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় খোকনচন্দ্র দাস (৪৫) নামের এক গ্রামীণ চিকিৎসক। খোকন দাসকে ছুরিকাঘাত করে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছিল দুর্বৃত্তরা। ঢাকা মেডিক্যালের বার্ন ইউনিটে আজ শনিবার সকাল আটটার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
ডামুড্যা থানা সূত্রে জানা গেছে, কনেশ্বর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের তিলই গ্রামের বাসিন্দা পরেশচন্দ্র দাসের ছেলে খোকনচন্দ্র দাস পেশায় একজন গ্রামীণ চিকিৎসক ও ওষুধ বিক্রেতা। কেউরভাঙ্গা বাজারে ওষুধ ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ব্যবসা করতেন তিনি। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর ২০২৫) রাতে দোকান বন্ধ করে সারা দিনে বিক্রির টাকা নিয়ে সিএনজি-চালিত অটোরিকশায় করে বাড়ি ফিরছিলেন খোকন।
ডামুড্যা-শরীয়তপুর সড়কে কেউরভাঙ্গা বাজারের অদূরে দুর্বৃত্তরা অটোরিকশা থামিয়ে তাঁকে মারধর করে। এক সময় তাঁকে কুপিয়ে আহত করা হয়। এর পর তাঁর মাথায় পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় দুৰ্বৃত্তরা। দুর্বত্তদের হাত থেকে বাঁচতে খোকন দাস সড়কের পাশের একটি পুকুরে ঝাঁপ দেন। তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
খোকনচন্দ্র দাসকে তৎক্ষণাৎ তাঁর পরিবার শরীয়তপুর হাসপাতালে ভরতি করে। চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। পরামর্শ অনুযায়ী তাঁকে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে তাঁকে ভরতি করেন ডাক্তাররা। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে অস্ত্রোপচার করা হয়। তবে দগ্ধ ও গুরুতর জখম হওয়ায় তাঁর অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। তিনদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ শনিবার সকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানভির হোসেন বলেন, আমরা হাসপাতাল কর্তপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, তিনি মারা গেছেন। আমরা খোঁজ নিচ্ছি, যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের দ্রুততার সঙ্গে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।
এদিকে ঘটনার পর বৃহস্পতিবার রাতে খোকন দাসের বাবা পরেশচন্দ্র দাস ডামুড্যা থানায় এফআইআর দায়ের করেন। এফআইআর-এর ভিত্তিতে কনেশ্বর এলাকার বাবুল খানের ছেলে সোহাগ খান (২৭), সামসুদ্দিন মোল্লার ছেলে রাব্বি মোল্লা (২১) এবং সহিদ সর্দারের ছেলে পলাশ সর্দার (২৫)-এর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন খোকনকে দেখতে যান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রাক্তন একান্ত সচিব নুরউদ্দিন আহমেদ অপু। তিনি গুরুতরভাবে আহত খোকনের চিকিৎসার সার্বিক খোঁজখবর নিয়ে তাঁর পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা ও সহানুভূতি প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে এই হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুততার মধ্যে গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এছাড়া খোকন দাসকে বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভরতির ব্যবস্থা এবং চিকিৎসার খরচ বাবদ আর্থিক সহায়তা করেন নুরউদ্দিন আহমেদ।
এদিকে খোকনের স্বজনরা জানান, শয্যা সংকটের দরুন অনেক চেষ্টা করেও অগ্নিদগ্ধ খোকনকে তাঁরা বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করতে পারছিলেন না। এ বিষয়ে সহায়তায় এগিয়ে আসায় নুরউদ্দিন আহমেদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন খোকনের আত্মীয়রা।
অন্যদিকে খোকন দাসের স্ত্রী সীমা দাস হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস