আইনশৃঙ্খলা আরও শক্তিশালী করতে পুলিশের সঙ্গে সাধারণ মানুষের অনুপাত বাড়াতে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর
কলকাতা, ১০ অক্টোবর (হি.স.) : পশ্চিমবঙ্গের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং জননিরাপত্তা ব্যবস্থার মান আরও উন্নত করতে রাজ্যে পুলিশ ও সাধারণ মানুষের অনুপাত উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করার এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। এই লক্
Suvendu


কলকাতা, ১০ অক্টোবর (হি.স.) : পশ্চিমবঙ্গের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং জননিরাপত্তা ব্যবস্থার মান আরও উন্নত করতে রাজ্যে পুলিশ ও সাধারণ মানুষের অনুপাত উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করার এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। এই লক্ষ্য পূরণে উত্তরপ্রদেশের পুলিশি পরিকাঠামোকে আদর্শ মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

কলকাতার সেন্ট্রাল ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স সার্ভিস সিস্টেম ১১২’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এই ঘোষণা করেন। তিনি অভিযোগের সুরে জানান যে, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে রাজ্যের প্রতি এক লক্ষ জনসংখ্যার অনুপাতে মাত্র ১০৫ জন পুলিশকর্মী নিয়োজিত ছিলেন। বিগত সরকারের ত্রুটিপূর্ণ নীতি এবং ওবিসি সংরক্ষণ সংক্রান্ত আইনি জট ও মামলার কারণে দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ বিভাগে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া মাঝপথেই থমকে ছিল। তবে বর্তমান সরকার সেই সমস্ত আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে সম্প্রতি পর্যাপ্ত নতুন নিয়োগ সম্পন্ন করেছে এবং আগামী দিনেও এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে পুলিশ ও সাধারণ মানুষের অনুপাত বৃদ্ধি পেয়ে ১৫৫-তে উন্নীত হয়েছে। অথচ উত্তরপ্রদেশে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সুদৃঢ় নেতৃত্বে এই অনুপাত আদর্শভাবে প্রতি এক লক্ষ জনসংখ্যায় ২০০-তে দাঁড়িয়ে রয়েছে। পুলিশ বিভাগে যদি পর্যাপ্ত জনবল বা ম্যানপাওয়ার না থাকে, তবে একা পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ কীভাবে অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর লড়াই চালাবে এবং সাধারণ মানুষকে সম্পূর্ণ নিরাপত্তা দিতে সক্ষম হবে?”

এদিনের এই সরকারি মঞ্চ থেকে পুলিশ কর্মীদের ওপর হামলা এবং সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের ঘটনার বিরুদ্ধে তাঁর সরকারের আপসহীন ও ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনরায় জোর দিয়ে স্পষ্ট করে দেন মুখ্যমন্ত্রী। পার্ক সার্কাস এলাকায় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ওপর সাম্প্রতিক পাথর ছোড়ার নিন্দনীয় ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “সেদিন আমি প্রকাশ্যে ক্যামেরার সামনে বলেছিলাম যে, ভবিষ্যতে যদি আবার পুলিশ বাহিনীর ওপর এ ধরনের ন্যক্কারজনক হামলা হয়, তবে আমি অত্যন্ত খারাপ পুলিশ মন্ত্রী হিসেবে প্রমাণিত হব।” এছাড়া আসানসোলের একটি পুলিশ ফাঁড়িতে ভাঙচুরের সাম্প্রতিক উদাহরণ তুলে ধরে তিনি জানান যে, ওই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত দুষ্কৃতীদের কাছ থেকে সরকারি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির পুরো টাকা জরিমানা হিসেবে আদায় করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী জোরালো কণ্ঠে জানান যে, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের কর্মক্ষমতা ও সাহসিকতার ওপর তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং তারা অত্যন্ত সক্ষম। তবে অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। পূর্ববর্তী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিগত সরকার পুলিশ প্রশাসনকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছিল এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার তাদের সমস্ত ক্ষমতা সীমিত করে রেখেছিল।

হিন্দুস্থান সমাচার / সন্তোষ মধুপ




 

 rajesh pande