
কলকাতা, ১০ অক্টোবর (হি.স.) : রাজ্যে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এবার কলকাতার ঐতিহাসিক ইডেন গার্ডেন্সে এক অভূতপূর্ব ও বর্ণাঢ্য মেগা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মহাসমারোহে দুর্গাপূজার শুভ সূচনা হলো। মহালয়ার এই পবিত্র পুণ্যলগ্নে আলোর রোশনাই, মন্ত্রমুগ্ধকর সঙ্গীত এবং ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে দেবী দুর্গাকে এক রাজকীয় ও জাঁকজমকপূর্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।
শনিবার সন্ধ্যায় নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী চোখধাঁধানো ঢাকে বারি, আদিবাসী নৃত্য এবং বিশিষ্ট গায়িকা লগ্নজিত চক্রবর্তীর সুমধুর কণ্ঠে উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। এদিন এই বর্ণাঢ্য উৎসবের মূল আকর্ষণ বাড়াতে রেড রোড থেকে একটি সুসজ্জিত ও বিশাল শোভাযাত্রা নিয়ে ইডেন গার্ডেন্সে প্রবেশ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিনের এই জমকালো অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন রাজ্যের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং সেলেবরা, যাঁদের মধ্যে অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত ও লেখিকা তসলিমা নাসরিনের উপস্থিতি বিশেষ নজর কেড়েছে।
অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল একটি অত্যাধুনিক ‘লাইট অ্যান্ড সাউন্ড’ শো, যেখানে রেডিওতে মহালয়ার ভোরে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের চণ্ডীপাঠের সম্প্রচার থেকে শুরু করে দেবীর আগমন এবং বিজয়া দশমীর সিঁদুর খেলা পর্যন্ত মায়ের আগমনী ও প্রস্থানের পুরো যাত্রাকে জীবন্ত করে ফুটিয়ে তোলা হয়। এর ঠিক পরেই আকাশে শুরু হয় হাজার হাজার ড্রোনের এক আকর্ষণীয় ও বর্ণিল প্রদর্শনী। ড্রোনের নিখুঁত কারসাজিতে ইডেনের রাতের আকাশে ভেসে ওঠে মা দুর্গার অপরূপ রূপ এবং প্রস্ফুটিত পদ্মফুলের সুদৃশ্য অবয়ব, যা উপস্থিত লক্ষাধিক দর্শককে সম্পূর্ণ মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে।
সাংস্কৃতিক পর্বের এই মহাযজ্ঞে একে একে মঞ্চে আসেন দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পীরা। শান, কৌশিকী চক্রবর্তী, অন্তরা মিত্র, শান্তনু মৈত্র এবং তাঁদের দক্ষ কলাকুশলীরা তাঁদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনার মাধ্যমে পুরো ইডেন চত্বরকে এক ভক্তিময় ও সাংস্কৃতিক আবহে ভরিয়ে তোলেন। শিল্পীদের সুরের মূর্ছনা এবং ক্লাসিক্যাল যন্ত্রসঙ্গীতের মূর্ছনা উপস্থিত সকলের মন জয় করে নেয়।
এদিকে, এই মেগা ইভেন্ট ও মহোৎসবকে কেন্দ্র করে শহরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কলকাতা ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যাপক ও সুদূরপ্রসারী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। বিশেষ করে অনুষ্ঠানের নিরাপত্তার স্বার্থে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ট্রাফিক পুলিশের নির্দেশ অনুযায়ী স্ট্র্যান্ড রোড এবং সেন্ট জর্জেস গেট রোডে সমস্ত ধরনের ভারী যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও বন্ধ রাখা হয়েছিল।
হিন্দুস্থান সমাচার / সন্তোষ মধুপ