
কৈলাসহর (হি.স.), ১০ অক্টোবর (হি.স.) : ঊনকোটি জেলার চণ্ডীপুর বিধানসভার অন্তর্গত সিঙ্গিরবিল টিটিএএডিসি ভিলেজের দশরাম পাড়ায় ফিশারির পাড় থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতপরিচয় বৃদ্ধের মৃতদেহের পরিচয় জানতে পারল পুলিশ। মৃতের নাম রাধাকান্ত দাস (৮৭)। তিনি ফটিকরায় বিধানসভা এলাকার কুলেশনগর, গকুলনগরের এক নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বৃদ্ধের মৃত্যুকে ঘিরে রহস্য ঘনীভূত হওয়ায় ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।
শনিবার সকালে সিঙ্গিরবিল টিটিএএডিসি ভিলেজের দশরাম পাড়ায় একটি ফিশারির পাড়ে বৃদ্ধের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জঙ্গলে লাকড়ি সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রথমে মৃতদেহটি দেখতে পান। এরপর তাঁরা বিষয়টি স্থানীয়দের জানান। খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাস্থলে ভিড় জমাতে শুরু করেন এলাকার বাসিন্দারা। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে কৈলাসহর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাস্থলটি কৈলাসহর শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। পঞ্চমনগর জাতীয় সড়ক থেকে প্রায় দু’কিলোমিটার ভিতরে দশরাম পাড়া এলাকায় মূল সড়ক থেকে আনুমানিক ৫০০ মিটার দূরে একটি ফিশারির পাড়ে বৃদ্ধের মৃতদেহটি পড়েছিল। মৃতদেহটি উপুড় অবস্থায় ছিল এবং মৃতের পরনে একটি ধুতি ছিল বলে জানা গিয়েছে। দুর্গম ও জনবসতি থেকে কিছুটা দূরের এই এলাকায় কীভাবে বৃদ্ধের মৃতদেহ এসে পড়ল, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। পরে ফরেন্সিক দলের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে গিয়ে বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখেন। প্রথমদিকে মৃতের পরিচয় জানা না যাওয়ায় তদন্তে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়। তবে পরবর্তী সময়ে পুলিশি সূত্রে মৃতের নাম ও ঠিকানা সম্পর্কে তথ্য সামনে আসে। এরপরই জানা যায়, মৃত ব্যক্তি ফটিকরায় বিধানসভা এলাকার গকুলনগরের বাসিন্দা রাধাকান্ত দাস।
তবে বৃদ্ধের মৃত্যুর কারণ নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। তিনি কী কারণে সিঙ্গিরবিলের দশরাম পাড়া এলাকায় এসেছিলেন, কীভাবে ফিশারির পাড়ে তাঁর মৃত্যু হল, কিংবা মৃত্যুর পিছনে কোনও দুর্ঘটনা বা অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, সে সম্পর্কে এখনও নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের অগ্রগতির উপরই এখন নির্ভর করছে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ।
পুলিশ মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি, বৃদ্ধের মৃত্যুর সঙ্গে কোনও অস্বাভাবিক পরিস্থিতি জড়িত রয়েছে কি না, তা-ও তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
পুজোর প্রাকমুহূর্তে নির্জন এলাকার ফিশারির পাড় থেকে বৃদ্ধের মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় প্রথমে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। পরে মৃতের পরিচয় জানা গেলেও মৃত্যুর রহস্য এখনও অধরা। ৮৭ বছর বয়সি রাধাকান্ত দাসের মৃত্যু নিছক দুর্ঘটনা, নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও কারণ—সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন পুলিশের তদন্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন এলাকাবাসী।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ