পাহাড়ে মহালয়ার আবহ, হাফলঙে অখণ্ড মণ্ডলীর আগমনী অনুষ্ঠান ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে ভোরের প্রার্থনা, জগন্নাথ মন্দির প্রাঙ্গণে বাঙালি পরিষদের গীতি-আলেখ্যে উৎসবের অন্য মাত্রা
হাফলং (অসম) ১০ অক্টোবর (হি স): পিতৃপক্ষের অবসান, দেবীপক্ষের সূচনা। মহালয়ার পুণ্যলগ্নে শনিবার ভক্তি, আবেগ ও উৎসবের আবহে মেতে উঠল ডিমা হাসাও জেলার পাহাড়ি শহর হাফলং। শারদীয় দুর্গোৎসবের আগমনী বার্তায় সকাল থেকে সন্ধ্যা—ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
Photo 2


Photo 1


হাফলং (অসম) ১০ অক্টোবর (হি স): পিতৃপক্ষের অবসান, দেবীপক্ষের সূচনা। মহালয়ার পুণ্যলগ্নে শনিবার ভক্তি, আবেগ ও উৎসবের আবহে মেতে উঠল ডিমা হাসাও জেলার পাহাড়ি শহর হাফলং। শারদীয় দুর্গোৎসবের আগমনী বার্তায় সকাল থেকে সন্ধ্যা—ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এক বিশেষ মাত্রা পেল পাহাড়ি শহরের মহালয়া উদ্যাপন।

মহালয়া উপলক্ষে শনিবার ভোরে হাফলং ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে আগমনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে হাফলং অখণ্ড মণ্ডলী। ডিমা হাসাও জেলা অখণ্ড সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান ঘিরে তৈরি হয় ধর্মীয় আবহ। পিতৃপক্ষের অবসান ও দেবীপক্ষের সূচনাকে সামনে রেখে দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা ছড়িয়ে পড়ে শহরে। পাহাড়ি এলাকার শীতল সকালের মধ্যেও এই আয়োজন মহালয়ার চিরাচরিত ঐতিহ্য ও ভক্তির আবেশকে জীবন্ত করে তোলে।

অন্য দিকে, মহালয়া উপলক্ষে হাফলংয়ের জগন্নাথ মন্দির প্রাঙ্গণে বিশেষ গীতি-আলেখ্য ও আগমনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাঙালি পরিষদ অসমের ডিমা হাসাও জেলা সমিতি। শনিবার সন্ধ্যায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠান শহরের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে এক অন্য মাত্রা যোগ করে। আগমনী গানের সুর ও মহালয়ার আবেগকে কেন্দ্র করে দেবীপক্ষের সূচনাকে স্মরণীয় করে তোলার উদ্যোগ নেয় সংগঠনটি।

বাঙালির কাছে মহালয়া শুধু একটি ধর্মীয় তিথি নয়, দুর্গাপুজোর আবেগঘন সূচনাও। পিতৃপক্ষের অবসানের সঙ্গে দেবীপক্ষের আগমন বাঙালির মনে জাগিয়ে তোলে দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমনের প্রতীক্ষা। আগমনী গান, চণ্ডীপাঠ এবং শারদোৎসবের স্মৃতিমেদুর আবহে এই দিনটির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বহু প্রজন্মের আবেগ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য।

হাফলঙের মতো পাহাড়ি জনপদে মহালয়া উপলক্ষে একাধিক সংগঠনের এই উদ্যোগ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বিভিন্ন ভাষা, জাতিগোষ্ঠী ও সংস্কৃতির মানুষের সহাবস্থানে সমৃদ্ধ ডিমা হাসাওয়ে এ ধরনের অনুষ্ঠান এক দিকে যেমন বাঙালির ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করে, অন্য দিকে তেমনই সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে।

শারদীয় দুর্গোৎসবের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই হাফলংয়ে বাড়ছে উৎসবের প্রস্তুতি ও প্রত্যাশা। মহালয়ার সকালে অখণ্ড মণ্ডলীর আগমনী অনুষ্ঠান এবং সন্ধ্যায় বাঙালি পরিষদের গীতি-আলেখ্য—দুই আয়োজনের মধ্য দিয়ে পাহাড়ি শহরে ধ্বনিত হল দেবীপক্ষের আগমনী সুর।

হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব




 

 rajesh pande